‘ন্যায়বিচারে দেরি নয়’, জুবিনের শেষকৃত্য স্থলে স্মৃতিসৌধ তৈরির ঘোষণা! মৃত গায়কের বাড়িতে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধীও

কিংবদন্তি গায়ক জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে দানা বাঁধছে উত্তেজনা। তাঁর মৃত্যু রহস্যের তদন্তে এবার নয়া মোড়। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঘোষণা করেছেন, অসম সরকার গৌহাটি হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানাবে যাতে এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য একটি ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠন করা হয়।

এক সাংবাদিক বৈঠকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) আশ্বাস দিয়েছে যে নভেম্বরের শেষের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই মামলার জন্য একজন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হবে, যিনি রায় ঘোষণার দিন পর্যন্ত একটানা যুক্ত থাকবেন। দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তিনি নিজে গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও দেখা করে কথা বলবেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গের। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ‘নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এ অংশ নিতে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা অসম শোকস্তব্ধ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছিল। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় গায়কের আত্মীয় ও অসম পুলিশের উপ-পুলিশ অধীক্ষক সন্দীপন গর্গ-সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং সিঙ্গাপুরের হাই কমিশনার এলিস চেং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, জুবিন গর্গ মৃত্যু তদন্তে আগামী ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুর পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করবে অসম পুলিশের এডিজিপি তথা সিট-এর প্রধান মুন্না গুপ্তার দল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার চাইছে এই সংবেদনশীল মামলায় ন্যায়বিচার যেন দেরি না হয়।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, জুবিন গর্গের শেষকৃত্য স্থলে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনা ও নকশা নির্ধারণের জন্য গায়কের স্ত্রী গরিমা গর্গ-সহ ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জুবিন গর্গের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ শুক্রবার অসমে যাচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীর এই সফরকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাহুল গান্ধী জুবিনের মৃত্যুর ২৮ দিন পর তাঁকে স্মরণ করেছেন। অন্তত একজন কংগ্রেস নেতা জুবিন গর্গের জন্য আসছেন – যা তারা ভূপেন হাজারিকার মৃত্যুর পরেও করেনি।”

Saheli Saha
  • Saheli Saha