হিজাব বিতর্কের জের! মানসিক চাপের কথা বলে চার্চ-পরিচালিত স্কুল ছাড়ল ছাত্রী—শেষ পর্যন্ত কেন এই সিদ্ধান্ত?

কেরলের কোচিতে একটি চার্চ-পরিচালিত CBSE অনুমোদিত স্কুলে হিজাব পরা নিয়ে সৃষ্ট তুমুল বিতর্কের পর অবশেষে স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন সেই মুসলিম ছাত্রীর পরিবার। তাদের অভিযোগ, এই বিতর্কের জেরে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীটি তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে ছিল।

পল্লুরুথির সেন্ট রিতা’স পাবলিক স্কুল-এ এই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। ছাত্রীর পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে হিজাব পরিধান নিয়ে সংঘাত চরম আকার ধারণ করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

কী ঘটেছিল সেন্ট রিতা’স স্কুলে?
স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই তাদের ইউনিফর্মের নিয়মের কথা বলে হিজাব পরার উপর আপত্তি জানিয়ে আসছিল। কর্তৃপক্ষের তরফে হাইকোর্টের মাধ্যমে স্কুল চত্বরে পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, ছাত্রীর অভিভাবকেরা সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (SDPI)-এর মতো ইসলাম-সমর্থক রাজনৈতিক সংগঠনের মদত পাচ্ছিলেন এবং সেই সংগঠনের সদস্যরা স্কুল কর্মীদের, যারা বেশিরভাগই নান, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, গত সোমবার স্কুল কর্তৃপক্ষ দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হন। প্রিন্সিপাল সিস্টার হেলিনা আরসি সমাজমাধ্যমে একটি চিঠিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পোশাকবিধি না মেনে আসা এক ছাত্রী ও তার অভিভাবকদের চাপ এবং মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেন।

ছাত্রীর পরিবার কেন স্কুল ছাড়ছেন?
মামলার সর্বশেষ মোড়ে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়ে আর সেন্ট রিতা’স পাবলিক স্কুলে যাবে না। তিনি বলেন, বিতর্কের জেরে তাঁর মেয়ে চরম মানসিক চাপে রয়েছে। তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার জন্য স্কুলের বিরুদ্ধে তাঁরা কোনও আইনি পদক্ষেপ নেবেন না।

যদিও ছাত্রীর আইনি পরামর্শদাতা অভিযোগ করেছেন যে, ছাত্রী ও তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে এবং যারা এতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, হিজাব পরার পেছনে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল না; মেয়েটি শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হিজাব পরত। তবে স্কুলে ঢোকার আগে ব্যাগে হিজাবটি রাখায় সে মানসিক কষ্ট পাচ্ছিল, যার ফলে তার মা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তোলেন।

ছাত্রীর বাবা সংবাদ সংস্থা PTI-কে জানিয়েছেন, তাঁরা অন্য স্কুলের সঙ্গে ভর্তির জন্য কথা বলছেন। একটি স্কুল ভর্তি করাতে রাজিও হয়েছে, তবে তাঁরা অন্যান্য বিকল্পও খতিয়ে দেখছেন।

উল্লেখ্য, কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি প্রথমে স্কুলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও কেরল ল্যাটিন ক্যাথলিক চার্চ (KRLCC) এই নির্দেশের কড়া সমালোচনা করেছিল। পরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিটে গেছে। তবে ছাত্রীর স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এল।