‘পিকে-র কৌশল’ এবার তৃণমূলের হাতে? সমাজমাধ্যমে অপপ্রচার রুখতে অভিষেকের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি

একসময়ের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে) আইপ্যাক থেকে বেরিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করলেও, তাঁর কৌশলের ছায়া কি আবারও দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসে? এই প্রশ্নই জোরালো হয়েছে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পর। অভিষেকের ঘোষিত ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচির সঙ্গে অনেকেই মিল খুঁজে পাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোরের বিহারের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচির।

যুব সমাজের উপর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিপুল প্রভাবকে কাজে লাগাতে এবং সমাজমাধ্যমে দলের প্রচারকে আরও জোরদার করতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলা-বিরোধীরা ডিজিটাল দুনিয়ায় কুৎসা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো সেই ‘বাংলা-বিরোধী এজেন্ডা’-র মোকাবিলা করে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরা।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কর্মসূচি শুরুর কয়েকমাস আগেই বিহারে নিজের ‘জন সুরজ পার্টি’-র হাত শক্ত করতে একই ধরনের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। জন সুরজ পার্টির তরফে সেই সময় বার্তা দেওয়া হয়েছিল, “অনলাইনে আসুন, বদল আনুন। ডিজিটাল যোদ্ধা হয়ে যান। ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্রান্তি আনুন।” জানা যায়, জন সুরজ দল প্রশিক্ষণের পর এই ডিজিটাল যোদ্ধাদের ভাতা দেয় এবং তাদের কাজ হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় পার্টির প্রচার করা।

একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্যের পিছনে পিকে ও আইপ্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা শাসকদলের বহু নেতাই স্বীকার করেন। বর্তমানে পিকে বিহারের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেকের নতুন কর্মসূচিতে তাঁর কৌশলগত ‘ছায়া’ রয়ে গেল কিনা, তা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।