প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতাও ব্যর্থ? যুদ্ধবিরতির পরেও থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে রাতের অন্ধকারে বাজছে ‘ভূতের কান্না’!

সীমান্ত পেরিয়ে ‘ভূতের মতো’ কান্নার আওয়াজ প্রচার করছে থাইল্যান্ড! দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ফের চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হুন সেন সরাসরি থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’-এর অভিযোগ তুলেছেন।
‘ভূতুড়ে শব্দে’ উদ্বেগ, রাষ্ট্রসংঘে নালিশ
কম্বোডিয়ার ক্ষমতাধর সেনেট প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হুন সেন জানিয়েছেন, দেশের মানবাধিকার কমিশন এই ‘উচ্চ তীক্ষ্ণ শব্দ’ (intense, high-pitched noises) নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিশন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ককে লেখা একটি চিঠিও প্রকাশ করেছে। চিঠিতে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ‘মনস্তাত্ত্বিক ভয়ভীতি ও হয়রানির একটি রূপ হিসেবে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী শব্দের ব্যবহার’-কে ‘মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশনের দাবি, সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট অনুযায়ী, থাই সামরিক ইউনিটগুলি রাতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ‘বিলাপরত ভূতের মতো ভুতুড়ে আওয়াজ’ প্রচার করছে। এরপর শোনা যায় উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের শব্দ।
কমিশন আরও জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এই বিরক্তিকর অডিও গ্রামবাসীদের ‘ঘুম ব্যাহত করছে, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং শারীরিক অস্বস্তি সৃষ্টি করছে’। এটি প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে বলেও তারা সতর্ক করেছে। তবে এই মারাত্মক অভিযোগের বিষয়ে থাই সরকার এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জুলাইয়ের সংঘাত ও ট্রাম্পের মধ্যস্থতা
কম্বোডিয়ার এই ‘ভূতুড়ে শব্দ’-এর অভিযোগ এমন সময়ে এলো যখন থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে সীমান্তে নতুন করে মাইন পাতার অভিযোগ এনেছে।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসে এই দুই দেশের মধ্যে দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়েছিল। ওই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত হন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হন। সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় যখন মাইন বিস্ফোরণে কমপক্ষে ছয়জন থাই সেনা আহত হন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সেই সময় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ না থামালে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত রাখা হবে।
বর্তমানে থাইল্যান্ড দাবি করছে, কম্বোডিয়া তাদের সীমান্তের কিছু অংশে নতুন করে মাইন পুঁতেছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া বলছে— কিছু থাই সেনা ভুল করে এমন একটি মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়েছেন যা তাদের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় বসানো হয়েছিল এবং PMN-2 শ্রেণির নয়। কম্বোডিয়া পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে বেশি মাইন-সংকুল দেশ। রয়টার্স-এর রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক সীমান্ত বিবাদ
১৮৯৭ সালে ফ্রান্সের করা মানচিত্রে প্রথম সীমানা চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই এই দুই দেশের মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার স্থল সীমান্তের বিভিন্ন অচিহ্নিত অংশ নিয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সার্বভৌমত্বের বিতর্ক চলছে। কম্বোডিয়া সে সময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। সাম্প্রতিককালে ‘ভূতুড়ে আওয়াজ’ ও মাইন পাতার অভিযোগ সেই পুরনো বিবাদেই নতুন মাত্রা যোগ করল।