গ্রিন বাজির নামে ঠকছেন না তো? কেনার সময় শিখেনিন এই ৩টি ট্রিকস

পরিবেশ দূষণ কমাতে সরকার এবং সুপ্রিম কোর্ট “গ্রিন ক্র্যাকার” বা সবুজ বাজি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। দিল্লিতেও এই কম ধোঁয়াযুক্ত আতশবাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে নকল বাজির ভিড়ে আসল ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ চেনাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভুল বাজি কিনলে বা বিক্রি করলে হতে পারে কঠোর শাস্তি।
গ্রিন বাজি কী এবং কেন বিশেষ?
সাধারণ আতশবাজির তুলনায় গ্রিন বাজি পরিবেশবান্ধব, কারণ এতে বেরিয়াম নাইট্রেটের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার কম বা একেবারেই থাকে না। ফলে এই বাজি থেকে দূষণ সৃষ্টিকারী কণা প্রায় ৩০-৪০% কম নির্গত হয়। সুপ্রিম কোর্ট দীপাবলির সময় বাতাস পরিষ্কার রাখতে দিল্লি-এনসিআর-সহ একাধিক এলাকায় কেবলমাত্র এই গ্রিন বাজি বিক্রি ও ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
আসল গ্রিন বাজি চিহ্নিত করার ৩টি জরুরি পদক্ষেপ:
বাজারে নকল গ্রিন বাজির কারবার বেড়ে যাওয়ায়, ক্রেতা হিসেবে আসল বাজি চেনার জন্য কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করা আবশ্যক:
১. CSIR-NEERI সবুজ লোগো যাচাই: প্রতিটি আসল গ্রিন বাজির প্যাকেজিংয়ে একটি সবুজ রঙের “CSIR-NEERI” লোগো প্রিন্ট করা থাকে। কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CSIR-NEERI) কর্তৃক অনুমোদিত এই লোগোটিই বাজির সত্যতা নিশ্চিত করে। যদি লোগোটি অনুপস্থিত থাকে বা অপরিষ্কার হয়, তবে তা কেনা থেকে বিরত থাকুন।
২. QR কোড স্ক্যান: প্যাকেটের ওপর একটি QR কোড দেওয়া থাকে। এই কোডটি আপনার মোবাইল ক্যামেরা বা নির্দিষ্ট অ্যাপ (যেমন: CSIR-NEERI Green Cracker Verification App) ব্যবহার করে স্ক্যান করুন। স্ক্যান করার পর বাজির রাসায়নিক উপাদান এবং দূষণ সৃষ্টিকারী মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। যদি কোডটি স্ক্যান না হয় বা ভুয়ো তথ্য দেখায়, তাহলে সতর্ক হোন।
৩. প্যাকেজিং পরীক্ষা: গ্রিন বাজির প্যাকেজিং সাধারণত স্বচ্ছ ও মজবুত হয়। এতে “গ্রিন ক্র্যাকার” বা “NEERI অনুমোদিত” লেবেল স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। প্রস্তুতকারকের নাম, ওজন এবং অন্যান্য তথ্যও পরিষ্কারভাবে মুদ্রিত থাকে। কোনো অসঙ্গতি দেখলে বিল চাইতে ভুলবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ: নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তি
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লি-এনসিআর-এ কেবলমাত্র গ্রিন বাজি বিক্রি ও পোড়ানোর অনুমতি রয়েছে। কেউ যদি এই নিয়ম লঙ্ঘন করে সাধারণ বাজি বিক্রি বা মজুত করেন, তবে দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (DPCC) এবং বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি হতে পারে:
বিক্রি বা মজুদ: ৫,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
আইন ভাঙলে (পোড়ানো): ২০০ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড।
যদি বারবার ভুল করা হয়, তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দূষণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির নজরদারি চলছে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সঠিক গ্রিন বাজি বেছে নিয়ে সুস্থ পরিবেশে দীপাবলি উদযাপন করুন।