২৫ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বড় মোড়: চেন্নাই থেকে গ্রেপ্তার মূল কেমিক্যাল অ্যানালিস্ট! কী ভূমিকা ছিল তাঁর?

মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় কোল্ড্রিফ কাফ সিরাপে ২৫ জন নিরীহ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এসআইটি (SIT) বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এসআইটি-র একটি দল শ্রীসন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ৬১ বছর বয়সী কেমিক্যাল অ্যানালিস্ট কে. মহেশ্বরীকে তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম চেন্নাই থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

ছিন্দওয়ারা পুলিশ এর আগে কোম্পানির মালিক জি রঙ্গনাথন এবং শিশুদের ওই বিতর্কিত ওষুধ লেখার অভিযোগে ডাক্তার প্রবীণ সোনির মতো একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। বর্তমানে রঙ্গনাথন ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২০ অক্টোবর তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

জব্বলপুর জোনের আইজি প্রমোদ বর্মা জানিয়েছেন, এসআইটি রঙ্গনাথনকে নিয়ে তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম এবং চেন্নাইয়ের কারখানায় গিয়েছিল। সেখানে উৎপাদন সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ছিন্দওয়ারায় ফিরে এসআইটি এখন সিরাপটির উৎপাদন, বিতরণ এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) নিয়ে রঙ্গনাথনকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

কেমিক্যাল অ্যানালিস্ট কে. মহেশ্বরীর ভূমিকা

পুলিশ সূত্রে খবর, এই পুরো ঘটনায় কেমিক্যাল অ্যানালিস্ট কে. মহেশ্বরীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক। কারখানায় ব্যবহৃত সমস্ত রাসায়নিক ও গুণমান তদারকির দায়িত্ব তার হাতেই ছিল। কোন ব্যাচে কতটা রাসায়নিক মেশানো হবে, সেই সব কিছুই কে. মহেশ্বরীর তত্ত্বাবধানে ঠিক করা হতো।

রঙ্গনাথন এসআইটি-কে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সমস্ত ওষুধ কে. মহেশ্বরীর তত্ত্বাবধানেই তৈরি হতো। ভুল কোথায় হয়েছে, তা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদেই স্পষ্ট হবে। রঙ্গনাথনের এই বক্তব্যের পরই এসআইটি মহেশ্বরীকে গ্রেপ্তারের জন্য কাঞ্চিপুরম পৌঁছায়।

কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল, হাইকোর্টে জামিন আবেদন

এদিকে, তামিলনাড়ু সরকার কঠোর অবস্থান নিয়ে শ্রীসন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে। অন্যদিকে, জব্বলপুরের ড্রাগ ও ওষুধ বিভাগ কাটারিয়া ফার্মাসিউটিক্যালেরও লাইসেন্স বাতিল করে গোডাউন ও দোকান সিল করে দিয়েছে।

এই ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশ থেকে দিল্লি পর্যন্ত তোলপাড় শুরু হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিভাগ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তদন্তে দেখা যায়, মৃত অধিকাংশ শিশুর জন্য ডাক্তার প্রবীণ সোনি নিজেই বিতর্কিত কোল্ড্রিফ কাফ সিরাপটি লিখেছিলেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। নিম্ন আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করার পর, ডাক্তার সোনি এখন জব্বলপুর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন। ১৬ অক্টোবর এই আবেদনের শুনানি হবে। রাজ্য সরকার এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করতে প্রস্তুত। সরকারি পক্ষের যুক্তি, এটি কেবল সাধারণ অবহেলার মামলা নয়, বরং গুরুতর অপরাধ, কারণ এতে নিরীহ শিশুদের জীবনহানি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার যৌথ রিপোর্টেও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, সিরাপে মান পরীক্ষার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি এবং ফার্মেসি স্তরে গুণমান নিয়ন্ত্রণের নিয়মাবলী সম্পূর্ণরূপে অবহেলা করা হয়েছিল। আইজি প্রমোদ বর্মা বলেছেন, “মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তের প্রতিটি দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের কোনো অবস্থাতেই রেয়াত করা হবে না।”