ক্ষতি ৯৫০ কোটি! ত্রাণ শিবিরেই মমতার হাতে রিপোর্ট দেবে জিটিএ, ভোটের আগে পাহাড়ে কি নতুন সমীকরণ?

প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরসূচিতে ‘লাস্ট মিনিটে’ বড়সড় বদল ঘটল। প্রথমে মিরিকে যাওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে মুখ্যমন্ত্রী এবার যাচ্ছেন দার্জিলিঙের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা সুখিয়াপোখরিতে।

স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কার্শিয়াং থেকে সড়কপথে এই এলাকায় পৌঁছে তিনি ত্রাণ শিবিরে যোগ দেবেন। সেখানে দুর্গতদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি, বিপর্যয়ে নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেবেন চাকরির নিয়োগপত্র। এরপর সরাসরি দার্জিলিঙের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, সোমবারও তিনি জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দশ জনের পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্বিতীয় উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা তুঙ্গে। পাহাড়ের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। জিটিএ-র প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে পাহাড়ের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। আজ, মঙ্গলবারই খোদ জিটিএ প্রধান অনীত থাপা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্টটি পেশ করতে পারেন।

ত্রাণ বিলি ও বিপর্যয় পরিদর্শন ছাপিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বৈঠকের সম্ভাবনাও। সামনেই নির্বাচন, এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর সফর পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। সূত্রের খবর, এই সফরের ফাঁকে কোনও রাজনৈতিক বৈঠক আয়োজিত হয় কিনা, সেই দিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে পাহাড়ের রাজনৈতিক কারবারিরা।