দুর্গাপুজো পেরোতেই কাটোয়ায় ‘নাড়ু বিপ্লব’! সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদার বিকোচ্ছে গুড়-চিনির নাড়ু, ক্রেতার ভিড়

দুর্গাপুজো শেষ মানেই একসময় বাঙালি বাড়িতে নাড়ু বানানোর যে ধুম লেগে যেত, আজকের দ্রুত গতিময় জীবনে সেই ছবি প্রায় ফিকে। কর্মব্যস্ততার চাপে এখন বেশিরভাগ বাড়িতেই তৈরি হয় নাড়ু। তবে এই হারানো ঐতিহ্যকেই নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন কাটোয়ার এক যুবক সোনা রক্ষিত।
স্নাতক ছাত্রের নতুন ব্যবসা: নাড়ু হোম ডেলিভারি
কাটোয়ার খাজুরডিহি গ্রাম পঞ্চায়েতের পানুহাটের বাসিন্দা সোনা রক্ষিত কাটোয়া কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। টিউশন পড়ানোর পাশাপাশি তিনি আগে খাবারের হোম ডেলিভারির কাজও করতেন। কিন্তু দুর্গাপুজোর পরই তিনি শুরু করেছেন একেবারে নতুন এক উদ্যোগ— অনলাইনে নাড়ু বিক্রি!
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই এখন তিনি নিজের হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের নাড়ু বিক্রি করছেন। এই প্রসঙ্গে সোনা রক্ষিত বলেন, “এখন অনেকেই বাড়িতে নাড়ু বানানোর সময় পান না। সেই কথা মাথায় রেখেই আমি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নাড়ু বিক্রি করছি। বেশ ভালই বিক্রি হচ্ছে, অনেকেই অর্ডার দিচ্ছেন।”
কী কী নাড়ু পাওয়া যাচ্ছে? দামই বা কত?
সোনা রক্ষিতের হাতে তৈরি নাড়ুর মেনুতে রয়েছে হরেক রকম পদ। তাঁর কাছে পাওয়া যাচ্ছে— গুড়ের নাড়ু, চিনির নাড়ু, তিলের নাড়ু, চিঁড়ের নাড়ু সহ আরও বেশ কিছু ধরনের ঐতিহ্যবাহী নাড়ু।
দামও রাখা হয়েছে সকলের নাগালের মধ্যে: বড় নাড়ু ৮ টাকা এবং ছোট নাড়ু ৬ টাকা।
হোম ডেলিভারিতে দেদার বিক্রি
সোনা রক্ষিত কাটোয়া শহরের মধ্যে বিনামূল্যে হোম ডেলিভারিও দিচ্ছেন। তবে দূরত্ব বেশি হলে সামান্য অতিরিক্ত খরচ দিতে হবে। প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর থেকেই তাঁর নাড়ুর চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে আসছে অর্ডার, নাড়ুও বিক্রি হচ্ছে দেদার।
বর্তমানে কালীপুজো পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে নাড়ু তৈরির কাজ। সোনা রক্ষিতের হাতে তৈরি হচ্ছে প্রায় কয়েকশ নাড়ু। সবমিলিয়ে, হাতে সময় না থাকলেও আর চিন্তা নেই— এবার সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বাড়িতে বসেই পৌঁছে যাবে মা-ঠাকুমার হাতের স্বাদের এই নাড়ু।