সোনার গয়না ও নথি-সহ হারানো ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়ে নজির গড়লেন করিমপুরের বাসকর্মী

সততা আর মানবিকতা যে আজও জীবিত, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হলো নদিয়া জেলার করিমপুরে। সোনার গয়না, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র-সহ হারানো একটি ব্যাগ আসল মালিকের হাতে তুলে দিলেন করিমপুর নতুন বাসস্ট্যান্ডের এক বাসকর্মী, যা ফের জয় করল সকলের হৃদয়।

যেভাবে হারাল ব্যাগটি
জানা গিয়েছে, করিমপুরের দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু হালদার ও পূজা হালদার সোমবার বগুড়ায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন। করিমপুর বাসস্ট্যান্ডে তাঁরা যখন তাঁদের ছেলেকে পোলিও টিকা খাওয়াচ্ছিলেন, সেই সময় অসাবধানতাবশত ব্যাগটি সেখানেই ফেলে রেখে চলে যান।

পরে এই ব্যাগটিই দেখতে পান বাসকর্মী পরিতোষ বিশ্বাস। প্রথমে সন্দেহজনক বস্তু ভেবে তিনি ব্যাগটি খোলেননি। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ব্যাগের মালিককে আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে, যখন তিনি সেটি খোলেন, তখন ভিতরে দেখেন— সোনার গয়না, কিছু টাকা পয়সা এবং জরুরি নথিপত্র, যার মধ্যে ছিল আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড।

পুলিশের হাতে ব্যাগ, মালিকের কাছে ফোন
দায়িত্বশীলতার চরম পরিচয় দিয়ে পরিতোষ বিশ্বাস বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে ব্যাগটি তুলে দেন করিমপুর থানার আইসি সেকান্দার আলমের হাতে।

পুলিশ দ্রুত নথিপত্র দেখে ব্যাগের মালিক অর্থাৎ বাচ্চু হালদার ও পূজা হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের থানায় আসার অনুরোধ জানায়। দম্পতি সঙ্গে সঙ্গে থানায় উপস্থিত হন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখানোর পর অক্ষত অবস্থায় তাঁদের হারানো ব্যাগটি ফেরত পান।

“ফেরত পাব আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম!”
ব্যাগে থাকা টাকা-পয়সা ও সোনার গয়না অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে খুশিতে আপ্লুত বাচ্চু ও পূজা। তাঁরা জানান, এত ভিড়ের মধ্যে ব্যাগটি হারিয়ে যাওয়ায় সেটি ফেরত পাওয়ার আশা তাঁরা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন।

এই ঘটনাটির পর করিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বাসকর্মী পরিতোষ বিশ্বাসের সততা ও দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে পুরস্কৃত করেন। স্থানীয় মানুষও তাঁর এই মানবিকতার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরিতোষ বিশ্বাসের এই কাজ প্রমাণ করল, সামান্য অসাবধানতার ফলও অনেক সময় সৎ মানুষের হাত ধরে সুখে পরিণত হতে পারে।