“১০ হাজার টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে”-বিহার ভোটে খেলা ঘোরাবে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’!

অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হাওয়া যতই থাকুক না কেন, বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’ (MMRY)-কেই ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছে এনডিএ জোট। বিহারের মোট ৭.৪৩ কোটি ভোটারের মধ্যে সাড়ে তিন কোটি মহিলা ভোটারের মন জিততে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সম্প্রতি এই প্রকল্পটি শুরু করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অনুকরণে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে যখন সরাসরি আর্থিক সহায়তার প্রকল্প চালু হয়েছে, তখন ‘সুশাসন বাবু’ নীতীশ কুমার কিছুটা ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। তাঁর ঘোষণা, বিহারের মহিলারা যদি কোনো ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে প্রথমে তাঁদের ₹১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা করা হবে। এরপর ব্যবসা বড় করার জন্য আরও ₹২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ইতিমধ্যে রাজ্যের ৭৫ লক্ষ ‘মহিলা উদ্যোগী’র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ₹১০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত দু’দশকের শাসনকালের জেরে নীতীশ সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা কাটিয়ে উঠতেই এই কল্যাণমূলক প্রকল্প।

অমিত শাহের ৩ ‘M’ ফর্মুলা:

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই দলের নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন যে বিহারের এবারের নির্বাচনে তিনটি ‘ম’ বড় ফ্যাক্টর হবে— মহিলা, মন্দির এবং মোদী (Mahila, Mandir, and Modi)। এর মধ্যে প্রথম স্তরেই রয়েছে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক।

এনডিএ নেতাদের বিশ্বাস, সাড়ে তিন কোটি মহিলা ভোটারের একটা বড় অংশ এই MMRY প্রকল্পের প্রভাবে আকৃষ্ট হবে। তাঁদের দাবি, মহারাষ্ট্র বা মধ্যপ্রদেশের মতো সরাসরি অনুদানের পথে না হেঁটে নীতীশ কুমার মহিলাদের ‘উদ্যোগী’ হওয়ার আরও বড় স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এই স্বপ্নই ইভিএম-এ ম্যাজিক দেখাবে বলে বিশ্বাস করছেন এনডিএ নেতারা।

এদিকে, ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিহারের নির্বাচনী প্রচারে অভিনবত্ব আনতে চলেছেন। ‘মেরা বুথ সবসে মজবুত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি বিজেপি ও এনডিএ-র নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।