‘এস জয়শঙ্কর সাহস পেলেন কী করে?’ দিল্লিতে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের তীব্র আক্রমণ

দীর্ঘ চার বছর পর আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফর কূটনৈতিক স্তরে নতুন বার্তা দিলেও, তাঁর একটি পদক্ষেপ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুত্তাকি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন, যেখানে মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি! এই ঘটনায় চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ভারত সরকারকে।

গত বৃহস্পতিবার ভারতে আসেন মুত্তাকি। শুক্রবার তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পরই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আফগানিস্তানে ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় খোলার ঘোষণা করেন, যা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন ইন্ধন যোগায়। জয়শঙ্কর বলেন, “আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারত সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি ভারতের কারিগরি মিশনকে দূতাবাসের মর্যাদায় উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পেরে আনন্দিত।” তালিবান মন্ত্রীও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

তবে সন্ধ্যায় মুত্তাকির সাংবাদিক বৈঠকটি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যায়। আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফায় তালিবান শাসন শুরু হওয়ার পর সে দেশের মহিলাদের ওপর একের পর এক অনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দিল্লিতেও কার্যত সেই ছায়াই দেখা যায়, যখন বিকেলে হওয়া মুত্তাকির সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনায় সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের পক্ষ থেকে। তিনি ‘X’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে লেখেন:

“কী করে ভারত সরকার ভারতের মাটিতে সমস্ত সাহায্যের সঙ্গে তালিবান বিদেশমন্ত্রী আমির মুত্তাকিকে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে, ‘মেল ওনলি’ সাংবাদিক বৈঠক করার অনুমতি দিল? ডয় এস জয়শঙ্কর কোন সাহসে এবিষয়ে সহমত হলেন? আর কী করেই বা আমাদের পুরুষ সাংবাদিকেরা ওই ঘরে গিয়ে বসতে পারলেন?”

মহুয়া মৈত্র এই ঘটনাকে ভারতীয় মহিলাদের চরম অসম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারকে “লজ্জাজনক মেরুদণ্ডহীন ভণ্ড” বলেও কটাক্ষ করেন।

জানা গেছে, বহু মহিলা সাংবাদিক নির্ধারিত পোশাকবিধি মেনেই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন অনেকেই। বহু সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, কেন এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সব পুরুষ সাংবাদিক বৈঠক বয়কট করেননি।

যদিও এই ঘটনার পর বিদেশমন্ত্রকের তরফে পরে বিবৃতি জারি করে জানানো হয় যে, এই বিষয়টির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও যোগ ছিল না। কিন্তু মুত্তাকির মতো বিতর্কিত ব্যক্তির শর্ত কেন দেশের মাটিতে মানা হলো, সেই প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক মহলে বিরোধীরা ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে।