কর্নাটকে ‘পিরিয়ড লিভ’ ঘিরে জোর বিতর্ক, বাংলাতেও কতটা দরকার?

নারীর স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্নাটক সরকার। রাজ্যের কর্মরত মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময় অসহনীয় যন্ত্রণা ও অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে মাসে একদিন করে সবেতন ‘মেনস্ট্রুয়েশন লিভ’-এর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘কলকাতার প্যাডম্যান’ নামে সুপরিচিত শোভন মুখোপাধ্যায় সাধুবাদ জানিয়েছেন।

মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন এবং পিরিয়ড ট্যাবু ভাঙতে নিরন্তর কাজ করা শোভন মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যম-কে বলেন, “কর্নাটক সরকারের এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি। ৪-৫ দিনের পিরিয়ড সাইকেলের মধ্যে যদি একটা দিনও রিলিফ পায়, সেটা তার জন্য স্বস্তিজনক।” তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে ২০১৮ সালে কলকাতায় একটি কর্পোরেট সংস্থা ৩ দিনের পিরিয়ড লিভের কথা ঘোষণা করেছিল। শোভনের মতে, এই উদ্যোগ শুরু হলে কর্মক্ষেত্রে “শরীর খারাপ হয়েছে” বলার আড়াল থেকে মহিলারা বেরিয়ে এসে এবার ন্যায্যভাবে ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ নিতে পারবেন, এতে আর কোনো গোপনীয়তা বা ট্যাবু থাকবে না।

কর্ণাটক সরকারের এই ঘোষণার পরই সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। অধিকাংশ পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন নেটিজেনের রুচিহীন কটূক্তি ও অশালীন মন্তব্যে ভরে গিয়েছে নেটপাড়া। “মাসে একদিন করে বেশি ছুটি পেয়েও কি পুরুষ সহকর্মীর সমান বেতন পাবেন এরা?” বা “মেয়েরা তো ছেলের মতো সমান অধিকার চায়, এর বেলা ফেমিনিস্টরা ছুটি বয়কট করবে না কেন?”—এমন একাধিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যে ছেয়ে গেছে ফেসবুক। তাদের মূল অভিযোগ, মহিলাদের কাজের চাপ এবার পুরুষ সহকর্মীদের ওপর পড়বে এবং সমবেতনে কেন মহিলারা কম দিন কাজ করবেন?

শোভন মুখোপাধ্যায়ের মতে, পুরুষদের এই আক্রমণের মূলে রয়েছে ছেলেবেলা থেকে সঠিক শিক্ষণের অভাব। তিনি বলেন, “ছেলেদের বেড়ে ওঠার সময়ে এটাই শেখানো হয়, পুরুষের সঙ্গে নারীর প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু নারীর কোনো শারীরিক সমস্যায় তাঁর পাশে থাকার বিষয়টি সেভাবে শেখানো হয় না। পিরিয়ড কী, তা বাড়ির ছেলেকে কখনওই বোঝানো হয় না।” এর ফলস্বরূপ, কর্মক্ষেত্রে পিরিয়ডের ব্যথায় কাতর মহিলা সহকর্মীর প্রতি পুরুষ কর্মীদের সংবেদনশীলতা তৈরি হয় না। তিনি মনে করেন, “সমবেতনে আমি যদি ২৪ দিন কাজে আসতে পারি তাহলে মহিলা সহকর্মী কেন ২৩ দিন অফিস আসবেন”—এই মনোভাব থেকেই ঈর্ষা তৈরি হচ্ছে।

শোভন মুখোপাধ্যায় আরও জানান, তাঁরা দ্রুত সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন যাতে বাংলায়ও পিরিয়ড লিভ চালু হয়। তাঁর দাবি, সরকারি-বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলাদের জন্য উদ্যোগ। “যারা খেতে কিংবা ইটভাটার মতো জায়গায় দিন আনা দিন খাওয়া করেন, তাঁদের জন্য একদিন ঋতুস্রাবের কারণে কামাই করার অর্থ বিনা রোজগারে বসে থাকা। ফলে শত কষ্ট হলেও তাঁরা কাজ করতে পৌঁছন,”—বলেন তিনি। তাই প্রশাসনকে এই পিছিয়ে পড়া মহিলাদের জন্য মেনস্ট্রুয়াল লিভ ও হাইজিন সচেতনতা নিয়ে কাজ করার আবেদন জানান তিনি।