৯৭ বছর পুরনো পুজোর ‘লোকজ’ থিম, অন্যদিকে রুপোর পালকিতে কলাবউ স্নান! কোথায় দেখবেন এই ঐতিহ্য?

উৎসবের শহরে এখন শুধুই আনন্দের গুঞ্জন। আজ, ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হল মা দুর্গার পিতৃগৃহে আগমনের মূল পর্ব, বোধন। শাস্ত্রীয় মতে, এই দিনেই দেবীর অধিবাস হয়, অর্থাৎ তিনি বিল্ববৃক্ষের (বেল গাছ) নিচে আরাধনা গ্রহণ করে সপরিবারে এক রাত সেখানেই অবস্থান করেন। এরপর সপ্তমীর সকালে তিনি সপরিবারে মণ্ডপে প্রবেশ করেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ, শহরজুড়ে এখন একই ছবি—উৎসবের এক বাঁধভাঙা আনন্দ!

শিকড়ের সন্ধানে হিন্দুস্তান পার্ক: ৯৭ বছরের ঐতিহ্য ও ‘লোকজ’ থিম
কলকাতার সাবেকি ও জনপ্রিয় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হিন্দুস্তান পার্কের পুজো এ বছর ৯৭তম বর্ষে পদার্পণ করল। তাঁদের এবারের থিম ‘লোকজ’ বা ‘শিকড়ের সন্ধানে’। আধুনিকতার ভিড়ে বাংলার লোক-সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সেই শিকড়কে খুঁজে বার করাই এই বছরের মূল ভাবনা। মণ্ডপজুড়ে লোক-শিল্পের ছোঁয়া এবং বাংলার প্রাচীন কারুকার্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

ঐতিহ্যের ব্যতিক্রম: কাটোয়ায় রুপোর পালকিতে কলাবউ স্নান
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের এক মফস্বল শহর কাটোয়া যেন তার প্রাচীন ঐতিহ্যকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে। কাটোয়ার তাঁতী পাড়ার সাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় এক অভিনব রীতি প্রচলিত। এই বাড়ির প্রথা অনুযায়ী, রুপোর পালকিতে চাপিয়ে নবপত্রিকা বা কলাবউকে কাটোয়ার ভাগীরথী ঘাটে স্নান করানো হয়।

ষষ্ঠীর সকালে সেই প্রথা মেনেই নতুন কলাবউকে রুপোর পালকিতে চাপিয়ে অত্যন্ত রাজকীয় কায়দায় ভাগীরথীর ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। নবপত্রিকা স্নানের পর পালকিতে করে তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনা হয় মন্দিরে। এই বিরল দৃশ্য দেখতে ভাগীরথীর ঘাটে সকাল থেকেই বহু মানুষের ভিড় জমে। এছাড়াও ঘাটে ঘাটে ধামসা-মাদলের তালে মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী নাচের দৃশ্যও ছিল উৎসবের এক বাড়তি পাওনা।