আশি পরিবারের টাকায় চলে পুজো, নেই চাঁদা! বাঁকুড়ার সিমলাপাল শারদোৎসবে ইসকন মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ দেখতে জনজোয়ার।

বাঁকুড়ার সিমলাপাল লাল ময়দানে ২৬’তম বর্ষে পদার্পণ করল সিমলাপাল সর্বজনীন শারদোৎসব কমিটির দুর্গাপুজো। প্রতি বছরই অভিনব থিমে দর্শনার্থীদের চমক দিয়ে আসা এই পুজো কমিটি এবার জেলার অন্যতম বড় আকর্ষণ। তাদের এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো মায়াপুর ইসকনের চন্দ্রোদয় মন্দিরের আদলে তৈরি বিশাল পুজো প্যান্ডেল।

২২ লক্ষ টাকার পুজো, বিশেষ আকর্ষণ

এই পুজোর বাজেট প্রায় বাইশ লক্ষ টাকা। ২০০০ সালে শুরু হওয়া এই পুজো আজ এলাকার সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মণ্ডপের এই জমজমাট আয়োজনের সঙ্গে রয়েছে বাঁকুড়ার সিমলাপালের শিল্পী গোপাল সরকারের নিপুণ হাতে তৈরি সাবেকি দুর্গা প্রতিমা, যা ঐতিহ্যের এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।

উদ্যোক্তাদের একটি বিশেষ দাবি এই পুজোর প্রতি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাদের মতে, প্রায় আশিটি পরিবারের আর্থিক সহায়তায় এই পুজোর খরচ বহন করা হয় এবং বাইরে থেকে কোনও চাঁদা তোলা হয় না। তবে এই পুজো রাজ্য সরকারের অনুদান লাভ করে।

সংস্কৃতি ও সচেতনতার সমাহার

মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি এই পুজোর মূল আকর্ষণ হলো তার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ষষ্ঠীর দিন বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের সঙ্গে শুরু হয়েছে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি।

সপ্তমীতে থাকছে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা মূলক নাটিকা, এরপর স্থানীয় শিল্পীদের নাচ, আবৃত্তি ও গান।

অষ্টমীতে পরিবেশিত হবে অরিজিৎ মুখার্জির কীর্তন সম্প্রদায়ের বিশেষ অনুষ্ঠান।

নবমীর দিন থাকছে সুর সঙ্গম অর্কেস্ট্রার মনোজ্ঞ সঙ্গীত সন্ধ্যা।

দশমীতে জমে উঠবে দেবলীনা ভাদুড়ি ও ইপ্সিতা পারিকরের গানে।

এছাড়াও একাদশীতে কলকাতার জনপ্রিয় যাত্রাপালা দেখার সুযোগ থাকছে।

সুরক্ষা ও জনসমাগম

পুজো উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি বছর প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ দর্শনার্থী এই পুজো মণ্ডপে ভিড় জমান। এবছরেও সমান সাড়া মিলবে বলেই আশা করছেন তারা। দর্শনার্থীদের সুরক্ষার জন্য থাকছে কমিটির প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং সিভিক ভলান্টিয়ার টিম। বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও লাল ময়দানে মাটি ও বালি ফেলে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফেও সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে।

থিম, প্রতিমা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাহারে সিমলাপালের এই দুর্গোৎসব বাঁকুড়া জেলার অন্যতম আকর্ষণে রূপ নিয়েছে।