খ্রিস্টপূর্ব ৬২৫ অব্দের মন্দির! কেন এখানে ছাগল বলি হলেও এক ফোঁটা রক্তও পড়ে না? নবরার্ত্রিতে মুন্ডেশ্বরী মন্দিরের অলৌকিক ঐতিহ্য।

বিহারের কাইমুর জেলার ভগবানপুর ব্লকের পাওয়ারা পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন মা মুন্ডেশ্বরী মন্দির তার রক্তহীন বলিদানের এক অনন্য ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অষ্টভুজাকৃতি এই মন্দিরটি খ্রিস্টপূর্ব ৬২৫ অব্দের বলেই দাবি করেছেন মন্দিরের পুরোহিতরা।

রক্তহীন বলিদানের অলৌকিক প্রথা

এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ব্যতিক্রমী বলিদান প্রথা। ভক্তেরা নিজেদের মনস্কামনা পূরণ হলে মা মুন্ডেশ্বরীকে উৎসর্গ করতে ছাগল নিয়ে আসেন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন, ছাগলটিকে দেবীর সামনে শুইয়ে অজ্ঞান করে দেওয়া হয়।

এরপর পুরোহিতরা ছাগলটির উপর চালের দানা এবং ফুল ছিটিয়ে দেন এবং স্তোত্র উচ্চারণ করেন।

এই প্রক্রিয়া শেষ হতেই ছাগলটি জ্ঞান ফিরে পায় এবং লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায়! এরপর ভক্তের কাছে প্রাণীটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এখানে পশুহত্যা বা রক্তপাতের স্বাভাবিক রীতিনীতি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা হয়। এই রক্তহীন বলিদান এক ধর্মীয় উৎসর্গ, যেখানে চালের শীষ, ফুল বা অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করে প্রতীকী বলিদান সম্পন্ন করা হয়।

মন্দিরের পুরোহিত মুন্না দ্বিবেদী দাবি করেছেন, “এই মন্দিরটি খ্রিস্টপূর্ব ৬২৫ অব্দের… একটি অনন্য ঐতিহ্য অনুসরণ করা হয়, যখন ইচ্ছা পূরণ হয়, তখন ভক্তরা ধানের শীষ এবং ফুল ব্যবহার করে রক্তহীন ছাগল বলি দেন।”

দেশ-বিদেশের ভক্তদের ভিড়

ভারতের নানা প্রান্ত থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও ভক্তরা মন্দিরটি পরিদর্শন করতে আসেন। বিশেষ করে নবরাত্রির সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ মাকে দর্শনের জন্য সমবেত হন। রামগড়ের এক ভক্ত বলেন, “আমি মায়ের কাছে কিছু প্রার্থনা করেছিলাম, আজ তা পূর্ণ হয়েছে। সেই কারণেই আমি ছাগলটি এনেছি।”

মন্দিরের হিসাবরক্ষক কৃষ্ণ গোপাল এবং বিডিও অঙ্কিতা শেখর জানিয়েছেন, নবরাত্রির সময় ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে জেলাপ্রশাসন পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে এবং ২৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে মন্দিরের উপর নজরদারি চালানো হয়।

উত্তরপ্রদেশের গৌরব এবং বর্ষার মতো ভক্তরাও এই মন্দিরে এসে “অদ্ভুত শান্তি” খুঁজে পান বলে জানিয়েছেন।