মোদীর দাবি “ডাহা মিথ্যা”, কেন্দ্রসরকারকে “ডাক পিওন” আখ্যা দিয়ে তোপ তৃণমূলের

কলকাতার দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি নিয়ে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’-এ করা মন্তব্যের পর দেশের রাজনীতিতে ফের তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগেই দুর্গাপূজা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউনেস্কোর সম্মান পেয়েছে। সঙ্গে তিনি ছটপুজোকেও একই তালিকায় তোলার চেষ্টার ঘোষণা করেন। মোদীর এই বক্তব্যকে ঘিরে তৃণমূল শিবির থেকে এসেছে তীব্র পাল্টা আক্রমণ।

ষষ্ঠীর সকালেই তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীর দাবি সরাসরি খারিজ করেন।

ডাহা মিথ্যা: কুণাল ঘোষ বলেন, “উনি ডাহা মিথ্যা বলেছেন। বাম আমলে এই পুজোর ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু মমতাদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ক্ষমতায় আসার পরেই দুর্গাপুজোর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বিশ্বায়ন নিয়ে কাজ শুরু হয়।”

রাজ্য সরকারের ভূমিকা: তিনি স্পষ্ট করেন, ইউনেস্কো স্বীকৃতির জন্য সমস্ত ফাইল, নথি ও প্রক্রিয়া রাজ্য সরকারই তৈরি করে পাঠিয়েছিল। তাঁর কটাক্ষ, “কেন্দ্র ডাক পিওনের ভূমিকা নিলে সেই কৃতিত্ব তাদের হয়ে যায় না।”

রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।

ভোটের প্রস্তুতি?: তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০২১ সালে বাংলার শারদোৎসব ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। মমতাদির সরাসরি উদ্যোগেই সব নথি তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী তখন একাধিকবার বাংলায় এসেছেন, কিন্তু এই নিয়ে কখনও তিনি মুখ খোলেননি। হঠাৎ ২০২৫ সালে এসে কেন বলছেন? এটা কি ২০২৬ সালের ভোটের প্রস্তুতি নয়?”

তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ ভালো করেই জানেন দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তোলার আসলি কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই।

বিজেপির দাবি: মোদী সরকারের সাংস্কৃতিক কূটনীতির সাফল্য
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব মোদী সরকারের এই দাবিকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান স্পষ্ট।

বিজেপির যুক্তি, কলকাতার দুর্গাপুজোর স্বীকৃতিই তার উদাহরণ।

তাঁদের দাবি, ছটপুজোর জন্যেও কেন্দ্রীয় প্রচেষ্টা প্রমাণ করছে মোদী সরকারের সাংস্কৃতিক কূটনীতির সাফল্যকে।

কলকাতার শারদোৎসবের স্বীকৃতি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই কৃতিত্বের দড়ি টানাটানি ফের জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে বাংলার আবেগকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে।