“আসল হিরো সঙ্কটমোচন হনুমান”-রামায়ণের থিমে নজর কাড়ছে খড়গপুরের সবুজ সংঘ

যেখানে অধিকাংশ পুজো কমিটি হলিউড বা বলিউডের থিম নিয়ে মাতামাতি করে, সেখানে এবার স্রোতের বিপরীতে হেঁটে রামায়ণ ও মহাভারতের আসল ‘হিরো’-কে তুলে ধরল রেলশহর খড়গপুরের সবুজ সংঘ ক্লাব। ক্লাবের ৫৬তম বর্ষের থিম— ‘সঙ্কটমোচন’। প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার বাজেটে তৈরি এই মণ্ডপ ইতিমধ্যেই জেলা এবং শহরের মানুষের নজর কেড়েছে।
কেন ‘সঙ্কটমোচন’ থিম?
পুজো উদ্যোক্তারা মনে করেন, জীবনে মাঝে মাঝে এমন সঙ্কট আসে যা থেকে বের হওয়া খুব কঠিন। পুরাণ মতে, এই সঙ্কট দূর করতে সাহায্য করেন রামভক্ত হনুমান। তাই তাঁকে সঙ্কটমোচন বলা হয়। হনুমানের আরাধনা করলে সব কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পুজো কমিটির বক্তব্য, অনেক বছর ধরে তাঁরা রাজ্যবাসীকে নানা বলিউড, হলিউড হিরোর কথা জানিয়েছেন, এবার তাঁরা চান “আমাদের আদি, আমাদের সৃষ্ট দেবতাদের” কথা তুলে ধরতে, যা ভারতবর্ষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁরা চান, এই সংস্কৃতির মহিমা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ুক।
মণ্ডপে জীবন্ত রামায়ণের মহানাটক
সবুজ সংঘের মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রামায়ণের সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য, যখন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে রামের ভাই লক্ষ্মণ তিরবিদ্ধ হয়েছিলেন। লক্ষ্মণকে বাঁচাতে কোনও চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায়, রামের প্রিয় শিষ্য বজরংবলী হনুমানকে ভার দেওয়া হয়েছিল সঞ্জীবনী জরিবুটি (জীবন রক্ষাকারী ভেষজ) আনার।
দৃশ্যপট: মণ্ডপে ঢুকলেই দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন একদিকে সীতা বসে কাঁদছেন, অপরদিকে রাবণের লঙ্কারাজ্য।
মূল আকর্ষণ: মণ্ডপে ঢোকার মুখে রয়েছে হনুমানের সঞ্জীবনী জরিবুটি আনার দৃশ্য— হনুমান যখন গন্ধমাদন পর্বত চিনতে না পেরে পুরো পর্বতকেই তুলে এনেছিলেন। পাশেই তিরবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন লক্ষ্মণ।
উদ্যোক্তারা বলছেন, সঙ্কটের সময় বজরংবলী হনুমান নিজের জীবন বিপন্ন করে যেভাবে লক্ষ্মণকে বাঁচিয়েছিলেন, সেই সাহসিকতা ও হিরোগিরি বর্তমান সমাজের খুব প্রয়োজন। আর এই কারণেই হনুমানের সেই বীরত্বকে মণ্ডপের কোনায় কোনায় তুলে ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নজরকাড়া মণ্ডপ দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন।