পাকিস্তানি সন্ত্রাসের ‘প্রধান মুখ’ নকভি, মন্ত্রী-ক্রিকেট কর্তার আচরন ঘিরে শুরু বিতর্ক

এশিয়া কাপের ফাইনালে (India vs Pakistan Asia Cup Final) পাকিস্তানকে হারানোর পর পাকিস্তানি ক্রিকেট কর্তার হাত থেকে পুরস্কার নিতে ভারতের অস্বীকার করার ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ক্রিকেট ইতিহাসে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপকে কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপি ‘শৌর্য’ বলে আখ্যা দিয়ে কুর্নিশ জানিয়েছে।

অমিত মালব্যর কঠোর বার্তা: ‘নকভিকে তাঁর ওয়কত বুঝিয়ে দেওয়া হলো’
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ভারতীয় দলের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ভারত ট্রফি নিতে অস্বীকার করেছে কারণ এটি তুলে দেওয়ার কথা ছিল মহসিন নকভির, যিনি কিনা ‘পাকিস্তানি সন্ত্রাসের প্রচারকদের প্রধান মুখ’।

মালব্যর কঠোর মন্তব্য:

“এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিল এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি কাপ ও মেডেল দিতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে।”

নকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই তিনি সে দেশের সরকারের একজন মুখ্য প্রচারমুখ।

টিম ইন্ডিয়ার প্রশংসা করে মালব্য বলেন, “আমরা পাকিস্তানকে কেবলমাত্র মাঠেই পর্যুদস্ত করিনি, নকভিকেও তাঁর ওয়কত বুঝিয়ে দিয়েছি। যিনি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র পাকিস্তানের মুখ্য প্রচারক। জেনে রাখবেন, এটা নতুন ভারত।”

বিসিসিআই সচিবের হুঙ্কার: ‘নভেম্বরে তীব্র প্রতিবাদ’
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) সচিব দেবজিৎ সইকিয়াও এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি ভারতীয় দলের অবস্থানকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।

সইকিয়া স্পষ্ট বলেন, “যে লোক আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা দেশের প্রতিনিধি, তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নেওয়া যায় কী করে। আমরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পাকিস্তান বিরোধী জোরাল প্রতিবাদ দেখিয়েছি।”

মহসিন নকভি যেভাবে পুরস্কার ও ট্রফি নিয়ে চলে যান, সেই বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। সইকিয়া জানান, নকভি পুরস্কার ও ট্রফি নিয়ে যাওয়ায় নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা ঠিকই করেছিলাম, পাকিস্তানের একজন প্রধান নেতার হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া হবে না। তার মানে এই নয় যে, উনি সেগুলি পকেটে পুরে চলে যাবেন।”

সইকিয়ার শেষ কথা: “পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচই হয়েছে একতরফা ভারতের জয়। আমরা আমাদের দলকে নিয়ে গর্বিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেমন সীমান্তে পাকিস্তানকে জবাব দিয়েছে, সেরকম আমরাও দুবাইতে একই জবাব দিয়েছি।”

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার এই ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্ব এবার খেলার মাঠ ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজনৈতিক প্রতিবাদে পরিণত হলো, যেখানে ট্রফি বর্জন করে ‘নতুন ভারতের’ বার্তা দিল টিম ইন্ডিয়া।