অবিশ্বাস্য ভালোবাসা! মৃত পোষ্যের ছবি বুকে নিয়ে রোজ পথের কুকুরদের খাওয়ান বেঙ্গালুরুর অটোচালক – তাঁর গল্প মন ছুঁয়ে গেল নেটপাড়ার

ভালোবাসা যে শুধু রক্ত বা সম্পর্কের বাঁধন মানে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন বেঙ্গালুরুর এক অটোচালক। মাসখানেক আগে মারা যাওয়া নিজের পোষ্যের ছবি অটোর সামনে লাগিয়ে, সেই স্মৃতি আঁকড়েই তিনি রোজ পথের সারমেয়দের (রাস্তার কুকুরদের) পেট ভরে খাওয়াচ্ছেন। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর এক যাত্রীর শেয়ার করা এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাই এখন মন ভিজিয়ে দিয়েছে গোটা নেটপাড়ায়।

অটোতে অপেক্ষার মাঝে কুকুরদের ‘স্পেশাল বিস্কুট’
‘ইন্ডিয়ানপেটস’ নামের একটি রেডিট গ্রুপে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান সেই যাত্রী। তিনি লেখেন, গরমের ছুটিতে ইন্টার্নশিপের সময় তিনি একটি অটো বুক করেন। চালক তাকে জানান যে পৌঁছতে সামান্য দেরি হবে। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে তিনি দেখেন, চালক রাস্তার কুকুরদের সাধারণ পার্লে-জি নয়, একেবারে কুকুরদের খাওয়ার বিশেষ বিস্কুট কিনে খাওয়াচ্ছেন।

ওই যাত্রী আরও লেখেন, “এর পরের দৃশ্য ছিল আরও হৃদয়বিদারক। আমি দেখি, চালক তাঁর অটোর সামনে একটি কুকুরের ছবি লাগিয়ে রেখেছেন। জিজ্ঞাসা করতে জানতে পারি, সেটি তাঁরই পোষ্য ছিল, যে মাত্র চার মাস বয়সেই মাসখানেক আগে মারা গিয়েছে।”

ভাড়ার অতিরিক্ত ১০০ টাকা উপহার, মুগ্ধ নেটিজেনরা
নিজে পশুপ্রেমী হওয়ায় এই ঘটনা দেখে ওই যাত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। গন্তব্যে পৌঁছনোর পর তিনি চালককে ভাড়ার অতিরিক্ত ১০০ টাকা উপহার দিতে চান, যাতে তিনি কুকুরদের জন্য আরও বিস্কুট কিনতে পারেন।

“প্রথমে তিনি এটি নিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু আমি যখন বলি, ‘এই টাকাটা আপনার জন্য নয়, ওই আদুরে কুকুরগুলোর জন্য’, তখন তিনি রাজি হন,” লেখেন যাত্রী। এই ‘ছোট্ট মুহূর্তটি’ তার মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে দিয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রশংসার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়
রেডিটের এই আবেগঘন পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। কমেন্ট সেকশনে উপচে পড়েছে মানুষের ভালোবাসা:

একজন নেটিজেন লিখেছেন, “দয়া করে এই মানুষটির যোগাযোগ নম্বর দিন। আমি বেঙ্গালুরুতে গেলে ওঁর অটোই ব্যবহার করব। এই ধরনের মানুষেরা সম্পদ, এঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”

আরেকজন মন্তব্য করেন, “এটি দেখে আমার চোখে জল এসে গিয়েছে। আমি নিশ্চিত, ওই ছোট্ট কুকুরছানাটার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। তিনি যে ভালোবাসা আর সহমর্মিতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তা যেন দ্বিগুণ হয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে।”

মৃত পোষ্যের প্রতি ভালোবাসা এবং সেই স্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে পথের পশুদের জন্য এই অটোচালকের কাজ নিঃসন্দেহে মানবতার এক অসাধারণ উদাহরণ স্থাপন করল।