৪০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল! বিজয়কে ঘিরেই গণ-বিস্ফোরণ, ক্ষোভে ফুটছে তামিলনাড়ু – বাড়ির বাইরে বিশাল পুলিশি পাহারা!

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে প্রবেশ করে প্রথম জনসভা করতে গিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে অভিনেতা তথা রাজনীতিক ‘থলপতি’ বিজয় (Thalapathy Vijay)। কারুরে তাঁর জনসভায় হুড়োহুড়ি (Stampede) ও তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে মৃতের সংখ্যা ৪০ ছুঁয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল (Death Toll) শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঠেকাতে চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাড়ির নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।
৭০ হাজার মানুষের ভিড়, ৭ ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছলেন বিজয়
আগামী বছর তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে DMK-কে উৎখাতের ডাক দিয়ে বিজয় তাঁর নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’-এর হয়ে কারুরে একটি বিরাট জনসভার আয়োজন করেছিলেন।
পুলিশের কাছ থেকে মাত্র ১০ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি নেওয়া হলেও, গতকাল সেখানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
তবে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে জনসভার অব্যবস্থাপনা। অভিযোগ, সভা সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বিজয় প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে, অর্থাৎ সন্ধে ৭টারও কিছু পরে জনসভায় পৌঁছন। যে হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গরমে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের জন্য খাবার বা জলের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সভা চলাকালীন অনেকে অজ্ঞানও হয়ে যান।
জনবিস্ফোরণ ও জলের বোতল বিতর্ক
পুলিশ সূত্রে খবর, বিজয় সন্ধে ৭টার পর জনসভায় ঢুকতেই কার্যত ‘জন বিস্ফোরণ’ ঘটে। সকলেই তাঁকে ছুঁয়ে দেখতে বা কাছাকাছি পৌঁছতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এই ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে মাটিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।
এই আবহেও বিজয় বেশ কিছু ক্ষণ বক্তৃতা চালিয়ে যান। এরপর যখন পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে, তখন তিনি বাসের উপর থেকে ভিড়ের দিকে জলের বোতল ছুড়ে দেন। অভিযোগ, এতে আরও হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠে। মানুষজনকে মাড়িয়ে সামনের দিকে ছুটতে থাকে ভিড়। ভিড়ের চাপে অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত সভাস্থলে ঢুকতে পারেনি।
নিরাপত্তা বাড়িয়ে দুর্গে পরিণত বিজয়ের বাড়ি
এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়ার পরই চেন্নাইয়ে বিজয়ের প্রাসাদোপম বাড়িকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাজ্য পুলিশকে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’-এর জেলা সম্পাদকদেরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিজয় মর্মাহত বলে জানিয়েছেন। তিনি নিহত ৪০ জনের পরিবারকে মাথাপিছু ২০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ঘোষণা করেছেন। তবে পুলিশ সূত্রে অভিযোগ, চারিদিকে যখন হাহাকার, সেই অবস্থায় তিনি দ্রুত সভাস্থল থেকে বেরিয়ে প্রাইভেট বিমানে চেপে নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তাঁর এই আচরণ নিয়েও জনমানসে ক্ষোভ বাড়ছে।