রাজস্থানের রাজকীয়তা এখন বর্ধমানে, লাল্টু স্মৃতি সংঘে জয়পুরের বিড়লা মন্দির, নিপুণ শিল্পকলায় চোখ ধাঁধানো থিম

কলকাতার বড় বড় পুজোগুলোকে টক্কর দিতে প্রস্তুত পূর্ব বর্ধমান জেলার পুজোগুলি। মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা, ব্যবস্থাপনা—সব দিক থেকেই এক-একটি পুজো এগিয়ে। এবার বর্ধমান শহরের লাল্টু স্মৃতি সংঘের ৬৪তম বর্ষের থিম শুধু জেলার নয়, গোটা রাজ্যের নজর কেড়েছে। কারণ, এবার তারা বাংলায় বসেই দর্শনার্থীদের উপহার দিচ্ছে রাজস্থানের জয়পুরের সুবিশাল বিড়লা মন্দির (Birla Temple)!
বর্ধমান শহর থেকে জিটি রোড ধরে উল্লাসের দিকে গেলেই বড় নীলপুর এলাকায় আপনার চোখে পড়বে এই রাজকীয় স্থাপত্যের ঝলক। দূর থেকে এক নজরে দেখলে আপনি কিছুতেই বুঝতে পারবেন না যে এটি জয়পুরের আসল বিড়লা মন্দির নাকি কোনো দুর্গাপুজোর মণ্ডপ।
নিপুণ শিল্পকলা: রাজকীয় স্থাপত্যের ছোঁয়া
এই মণ্ডপ তৈরি করেছেন কলকাতার বিখ্যাত শিল্পীরা, যাঁরা এর আগে সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কয়েক মাস সময় নিয়ে তাঁরা তাঁদের নিপুণ শিল্পকর্মের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন বিড়লা মন্দিরের রাজকীয় স্থাপত্য। মন্দিরের নিখুঁত কারুকাজ আর চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা (Dazzling Lighting) এই মণ্ডপকে করে তুলেছে জীবন্ত।
ক্লাবের সম্পাদক জানান, “আমরা সারাবছর অপেক্ষা করে থাকি দর্শনার্থীদের ভালো কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। আমাদের এই বছরের থিম রাজস্থানের জয়পুরের বিড়লা মন্দির। আপনার দেখলে মনে হবে রাজস্থানের বিড়লা মন্দির বর্ধমানে চলে এসেছে।”
ভিড় সামলাতেই নাজেহাল আয়োজকরা
এই অভিনব থিমের কারণে বর্ধমানের এই পুজো মণ্ডপে ভিড় এতটাই বেড়েছে যে আয়োজকদের কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্লাবের সম্পাদক জানান, “সারাবছর আমরা সামাজিক কাজ করি, কিন্তু পুজোর সময়ে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পারি না। কারণ এখানে এত ভিড় হয়, সেই ভিড় সামলাতেই নাজেহাল অবস্থা।”
বর্ধমানের বুকেই এই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের রাজস্থানের জয়পুর বিড়লা মন্দিরের সেই রাজকীয় স্থাপত্য ও নিপুণ শিল্পকলার ছোঁয়া এনে দিয়েছে। আপনার পুজোর অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রাখতে লাল্টু স্মৃতি সংঘের এই থিম মণ্ডপটি অবশ্যই আপনার পুজো পরিক্রমায় যুক্ত করে নিন।