চা বাগানে পুজোর বোনাস-বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জের জেরে রণক্ষেত্র কিলকোট, শুভেন্দুর নিশানায় রাজ্য সরকার

একদিকে যখন উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়েছে, অন্যদিকে তখন পুজোর বোনাস (Puja Bonus)-এর দাবিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের হাতে মার খেলেন চা শ্রমিকেরা। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা বিধানসভার মেটেলী ব্লকের কিলকোট চা বাগানে (Kilkot Tea Garden) এই সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য সরকার ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে।

শুভেন্দুর তোপ: ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নির্মম লাঠিচার্জ’
রবিবার এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন যে, চা শ্রমিকেরা যখন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ (Peaceful Protest) দেখাচ্ছিলেন, তখনই পুলিশ চরম দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ আধিকারিক মুস্তাকের নেতৃত্বে মমতা পুলিশের বাহিনী নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ (Lathi-Charge) করে।

বিরোধী দলনেতা তাঁর পোস্টে আরও বলেন, “পুলিশ আধিকারিক মুস্তাক চা শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। বেশ কয়েকজন চা শ্রমিক পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন।”

‘মমতার অপশাসন’: চা শ্রমিকদের বঞ্চনা নিয়ে প্রশ্ন
শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘অপশাসনে’ এমনিতেই চা বাগানের শ্রমিকেরা বঞ্চনার শিকার। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চা শ্রমিকদের জন্য ঢালাও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিলেও, শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য পাওনাটুকুও (Just Dues) পান না।

পুজোর বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনও (Fair Movement) জোরপূর্বক বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি। বিজেপি নেতার হুঁশিয়ারি, “এই সরকারকে উপড়ে না ফেললে অপশাসন থেকে রাজ্যবাসী মুক্তি পাবে না।”

পুজোর মুখে বন্ধ চা বাগান: অন্ধকারে শ্রমিক পরিবার
প্রসঙ্গত, পুজোর মরসুমে যখন গোটা রাজ্য আনন্দে মেতেছে, ঠিক তখনই ডুয়ার্সের একাধিক চা বাগান (Tea Gardens Closed) পরপর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চা শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। ডুয়ার্সের তিনটি চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা বকেয়া মেটানো ও পুজোর বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন।

আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিজ্ঞার মন্তব্যকে তুলে ধরে শুভেন্দু আরও বলেন, মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে এলে কেবল চা বাগান খোলা হয়, কিন্তু পরে আবার সব বন্ধ হয়ে যায়। এই বঞ্চনা ও আন্দোলনের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে জঙ্গলমহল থেকে ডুয়ার্স পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।