বিজয়ের সভার মৃত্যুমিছিলের রিপোর্ট চাইল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক! ফোনে স্ট্যালিনের কাছে কী তথ্য জানতে চাইলেন অমিত শাহ?

তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে ৩৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে কথা বলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তামিলনাড়ু সরকারকে একটি কড়া বার্তা দিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ রিপোর্ট তলব করেছে। মন্ত্রক জানতে চেয়েছে, পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো এবং উদ্ধারকাজ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজ্য সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তার সব তথ্য দ্রুত জানাতে হবে।
কেন তৈরি হলো এই মৃত্যুমিছিল?
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে অব্যবস্থাপনার এক ভয়াবহ চিত্র। জনসভার জন্য কর্তৃপক্ষ ৩০ হাজার মানুষের অনুমতি নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভায় হাজির হন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ, অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি ভিড়।
এছাড়াও, অভিযোগ উঠেছে, বিজয়ের সভায় প্রায় ছয় ঘণ্টা দেরি হয়। বিকেল থেকে অপেক্ষমাণ ভিড় সন্ধ্যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বিজয় বক্তৃতা শুরু করতেই মঞ্চের দিকে একযোগে ছুটতে শুরু করেন হাজারো সমর্থক। এই হুড়োহুড়ির জেরেই অনেকে পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক।
রাজ্য ও নেতার প্রতিক্রিয়া
এই মর্মান্তিক ঘটনায় তামিলনাড়ু সরকার ও বিজয়ের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে:
মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন: পরিস্থিতি যাচাই ও দোষীদের চিহ্নিত করতে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অরুণা জগদীশানের সভাপতিত্বে এই কমিশন ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে।
টিভিকে প্রধান বিজয়: অভিনেতা-নেতা বিজয় এই ঘটনায় প্রথমবার মুখ খুলেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমি অসহনীয়, অবর্ণনীয় দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি।” তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ভিড় নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হস্তক্ষেপ—এই দুইয়ের জেরে এই ঘটনা এখন জাতীয় স্তরের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।