“হ্যালো, আমি কথা বলতে পারি না, অসুস্থতা সত্ত্বেও জোমাটো ডেলিভারি বয়ের এই মেসেজ চোখে জল এনে দিল!

তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। কান শোনেন না, কথা বলতেও পারেন না। তবু জীবনযুদ্ধে তাঁর কাজ এক মুহূর্তের জন্য থামেনি। বরং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া তাঁর একটি হৃদয়স্পর্শী বার্তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে, যা আবেগে ভাসাচ্ছে লক্ষ লক্ষ নেটাগরিককে।

সেই ভাইরাল বার্তাটি কী?
সম্প্রতি ‘জোমাটো’র এক গ্রাহক, স্টুটি, তাঁর সামাজিক মাধ্যম X (পূর্বতন টুইটার)-এ একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায়, তাঁর কাছে আসা ডেলিভারি বয়ের মেসেজ:

“আমি অর্ডার তুলে নিয়েছি। খুব শিগগির পৌঁছে দেব। হ্যালো, আমি কথা বলতে পারি না। শুনতেও পাই না। আমি মেসেজ করব, দয়া করে দেখে নেবেন।”

অত্যন্ত সরল, সৎ এবং ভরসা জাগানো এই বার্তাটি মুহূর্তেই মন ছুঁয়ে যায় নেটিজেনদের। ক্যাপশনে স্টুটি লেখেন, “পরিবারের জন্য পুরুষেরা কী না করে!”

কেন এত আবেগপ্রবণ হলেন নেটিজেনরা?
ভাইরাল হওয়ার পর ইতিমধ্যেই পোস্টটির ভিউ সংখ্যা ৯ লক্ষেরও বেশি। ব্যবহারকারীরা ওই ডেলিভারি বয়ের প্রতি ভালোবাসা ও প্রশংসা ঝরিয়েছেন। নেটিজেনদের মতে, অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও অজুহাত না দিয়ে নিজের জীবন গড়ে তুলতে এই যে নিরন্তর চেষ্টা, তা-ই সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

নেটাগরিকদের মন্তব্যে উঠে এসেছে একাধিক আবেগঘন দিক:

কেউ লিখেছেন, “এই কারণেই সবসময় টিপস দিই। জানি না, খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে কে কেমন সংগ্রাম করছে।”

অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সামান্য জল বা দু’টো কথা বললেও এই কর্মীরা খুশি হন। গ্রাহকদেরই উচিত তাঁদের প্রতি আরও সহযোগিতা করা।

কেউ কেউ নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানিয়েছেন, এর আগে পা কাটা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে ডেলিভারি দিতে আসা কর্মীদের জন্য গ্রাহকদের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। অ্যাপে এমন তথ্য থাকলে তাঁরা নিচে গিয়ে খাবার নিতে পারেন, এতে কর্মীর কষ্ট কমবে।

এর আগেও বহুবার প্রতিবন্ধকতা জয় করে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন ‘জোমাটো’র ডেলিভারি বয়েরা। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল যে, হার না মানা মানুষের জীবন সংগ্রাম মুহূর্তেই সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা রাখে।