‘চক্রান্তকারীদের শাস্তি মিলেছে’! আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘অপারেশন সিঁদুরের’ কড়া সমর্থন জয়শঙ্করের, পাকিস্তান কি নড়ে বসবে

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় (UNGA) শনিবার ভারতীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে ‘নমস্কার’ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, আর তার ঠিক পরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে কড়া ভাষায় পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিলেন তিনি। দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাস ছড়ানো ভারত কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না।
‘সন্ত্রাসবাদই কিছু দেশের রাষ্ট্রনীতি’
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে জয়শঙ্কর বলেন, কিছু দেশ আছে, যারা সন্ত্রাসবাদকেই রাষ্ট্রনীতি করে ফেলেছে। তিনি পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ভারত এমন প্রতিবেশীর সঙ্গে বাস করে, যারা ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রভূমি’। এই দেশ যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বড় বড় জঙ্গি কার্যকলাপের পিছনে মদত জুগিয়েছে।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, যখন জঙ্গিদের ডেরাগুলি শিল্প-কারখানার স্তরে পৌঁছে যায়, যখন জঙ্গিদের দেশের মানুষের সামনে ‘শহিদের মর্যাদা’ দেওয়া হয়, তখন দলমত নির্বিশেষে সেই কাজের নিন্দা করা উচিত।
পহেলগামের খুন ও ‘অপারেশন সিঁদুরের’ যৌক্তিকতা
ভারতের বিদেশমন্ত্রী জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হানায় ২৬ জনের মৃত্যুর দৃষ্টান্ত টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, এই বছরের এপ্রিল মাসে নিরীহ মানুষদের খুনের পিছনে সেই দেশেরই হাত ছিল।
দেশের মানুষকে রক্ষা করতে ভারত যে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে, তার যৌক্তিকতাও দেন জয়শঙ্কর। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষকে রক্ষা করতে দেশ নিজ অধিকার ও ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। চক্রান্তকারীদের শাস্তি মিলেছে।” তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বের কাছে আমাদের একটি বার্তা ছিল।
চূড়ান্ত সতর্কতা: ‘সন্ত্রাসী জৈবচক্র’ ধ্বংস হোক
জয়শঙ্কর হুঁশিয়ারি দেন যে, কুখ্যাত জঙ্গিদের নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে রসদ পৌঁছানো বন্ধ করাও জরুরি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদী জৈবচক্র (Terrorist Ecosystem) ধ্বংস করতে লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা উচিত।
জয়শঙ্কর বলেন, “আজ যারা জঙ্গিদের মদত জোগাচ্ছে, তারা বুঝতেও পারছে না, এরাই একদিন ঘুরে তাদেরই ছোবল মারবে।” এই চূড়ান্ত সতর্কবার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভারত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।