অশুভ শক্তি নাশ করতে ভরসা ভক্তি! দুর্গাপূজা মণ্ডপে সামাজিক বার্তা দিল বর্ধমানের এই ৬৭ বছরের প্রাচীন পুজো!

আর মাত্র একদিনের অপেক্ষা। তারপরই শুরু দেবীর আরাধনা, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হবে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়। শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার পুজো মণ্ডপগুলিও এখন বিগ বাজেট এবং থিমের চমকে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বর্ধমান শহরের তেমনই এক বড় পুজোর আয়োজন করছে ঘোড়দৌড় চটি সার্বজনীন দুর্গোৎসব।

এ বছরের তাঁদের থিম ভাবনা হলো ‘ভক্তিতেই মুক্তি’। প্রায় ২২ লক্ষ টাকা খরচে প্রায় আড়াই মাস ধরে এই মণ্ডপটি গড়ে তোলা হয়েছে।

ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে শিল্পকলা
বর্ধমান শহরের বড় পুজো গুলোর মধ্যে অন্যতম এই ঘোড়দৌড় চটি সার্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপটি গড়ে তোলার নেপথ্যে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবর ডাঙার শিল্পীরা। তাঁদের নিপুণ হাতের জাদুতে মণ্ডপ সজ্জার কাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই বিশাল মণ্ডপটিকে রূপ দেওয়া হয়েছে ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে। হাতে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং ফেলে দেওয়া সামগ্রীর শৈল্পিক ব্যবহার মণ্ডপে এক অনন্য আঙ্গিক এনেছে।

থিমের ভাবনা: সংগ্রাম জয় ও ইচ্ছাশক্তি
পুজো উদ্যোক্তারা জানান, তাঁদের ৬৭ বছরের এই পুজোর এবারের থিমের মূল বার্তা হলো, জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম অতিক্রম করার জন্য ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং মনের ইচ্ছা শক্তি একান্ত প্রয়োজন।

তাঁরা বলেন, “আমরা দৈনন্দিন জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হই। ঈশ্বর বা দেবীর প্রতি যে ভক্তি, তা আলাদা একটা সাহস জোগায়। পাশাপাশি অশুভ শক্তিকে নাশ করতে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হই। ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি আর মনের ইচ্ছা শক্তি না থাকলে কোনো যুদ্ধই জয় করা সম্ভব নয়।” এই বিশ্বাসের প্রতিফলনই দেখা যাবে মণ্ডপের প্রতিটি কোণে।

মণ্ডপ জুড়ে শিল্পের এক ভিন্ন আঙ্গিক ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি, পুজো উদ্যোক্তারা মণ্ডপজুড়ে নানান সচেতনতামূলক ব্যানারও দিয়েছেন, যা এই বিগ বাজেট পুজোকে দিয়েছে এক সামাজিক বার্তা।