পারিবারিক পদবী ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’, তবুও কেন সই করতেন ‘শর্মা’ নামে, বিদ্যাসাগরের জন্মদিনে জানুন এই চমকপ্রদ তথ্য

বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম প্রাণপুরুষ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আজ, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৮২০ সালের এই দিনেই পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিধবা বিবাহ প্রবর্তন, বাল্যবিবাহ রোধ থেকে শুরু করে ‘বর্ণপরিচয়ের’ স্রষ্টা হিসেবে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

গোটা বাংলা যখন এই প্রবাদপ্রতিম মনীষীর জন্মদিবস পালন করছে, তখন তাঁর জীবন সম্পর্কে একটি কৌতূহলী তথ্য আবারও সামনে এসেছে— তিনি কেন তাঁর পারিবারিক পদবী ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ ব্যবহার না করে, সই করতেন ‘শর্মা’ নামে?

বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, বিদ্যাসাগরের সই ছিল ‘ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা’ বা ‘শর্মনঃ’
পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আসল নাম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র এবং পারিবারিক পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি যখন বিভিন্ন চিঠি লিখতেন বা নথিপত্রে স্বাক্ষর করতেন, তখন নিজের নাম লিখতেন ‘ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা’ অথবা সংস্কৃত শব্দ ‘ঈশ্বরচন্দ্র শর্মনঃ’ ব্যবহার করে।

১৮২০ সালে ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভগবতী দেবীর কোল আলো করে তিনি জন্ম নেন। তবে তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি হিসেবে সংস্কৃত কলেজ থেকে তাঁকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সইয়ের ক্ষেত্রে ‘বিদ্যাসাগর’ বা ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’, কোনওটিই ব্যবহার করেননি।

কেন ‘শর্মা’ পদ ব্যবহার করতেন তিনি?
বিদ্যাসাগর গবেষকদের মতে, এর পিছনে লুকিয়ে আছে পাণ্ডিত্যের এক প্রাচীন ঐতিহ্য।

পাণ্ডিত্যের প্রতীক: গবেষকরা মনে করেন, বহু প্রাচীন সময় থেকেই উচ্চবর্ণীয় পণ্ডিত ব্যক্তিরা নিজেদের পাণ্ডিত্যের প্রকাশ ঘটাতে ‘শর্মা’ বা ‘শর্মনঃ’ (সংস্কৃত শব্দ) উপাধি বা উপপদ ব্যবহার করতেন।

উপমা হিসেবে ব্যবহার: যেহেতু তিনি সংস্কৃতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন এবং ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ করেন, তাই নিজের পাণ্ডিত্যের উপমা হিসেবেই তিনি নিজের পদবীর পরিবর্তে ‘শর্মা’ উপপদটি স্বাক্ষর হিসেবে ব্যবহার করতেন।

বর্ণপরিচয় থেকে শুরু করে তাঁর সমাজ সংস্কারের বহু ঘটনা পড়া হলেও, সইয়ের এই ধরন আজও গবেষক ও সাধারণ মানুষকে অবাক করে। সারা রাজ্য জুড়েই শুক্রবার পালিত হচ্ছে এই প্রবাদপ্রতিম মনীষীর জন্ম দিবস।