‘আন্দোলনের আগুনে ঘি’! র‍্যাঞ্চোর গ্রেফতারির পরই লেহ-তে ইন্টারনেট বন্ধ, ‘উস্কানি’র অভিযোগে সরব পুলিশ

লাদাখে গণবিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেওয়ার পরই নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করা হল পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ওরফে ‘বাস্তবের র‍্যাঞ্চো’-কে। বুধবারের সংঘর্ষের পর শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ঢোকার মুখেই লেহ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বুধবার রাত থেকেই লাদাখের রাজধানী লেহ-তে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সোনাম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে “আন্দোলনের আগুনে ঘৃতাহুতি” দেওয়ার এবং হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।

যা ঘটল লাদাখে:
লাদাখকে রাজ্যের স্বীকৃতি এবং সংবিধানের ‘ষষ্ঠ তফসিল’-এ অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে অনশন করছিলেন সোনাম ওয়াংচুক। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বুধবার ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।

বুধবার হাজারও যুবক-যুবতী রাজপথে নেমে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটাতে হয়। এর জবাবে আন্দোলনকারীদের একাংশ পাথর ছুঁড়তে শুরু করে।

লেহ-র বিজেপি (BJP) কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাস্তায় পুলিশের গাড়ি সহ একাধিক যানবাহন পোড়ান হয়।

এই সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৮০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরই ১৫ দিনের অনশন প্রত্যাহার করে নেন সোনাম ওয়াংচুক। তিনি ঘটনার নিন্দা করে বলেন, “আজকের এই ঘটনা গত ৫ বছর ধরে চলা আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ব্যাহত করেছে। তরুণদের এই প্রতিবাদ কেবল বেকারত্ব এবং অন্যান্য বৃহত্তর বিষয়গুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমি তাদের হতাশা ও ক্ষোভ বুঝি, তবে তাদের প্রতিবাদের পদ্ধতির নিন্দা জানাই।”

র‍্যাঞ্চোর বিরুদ্ধে অভিযোগ মানতে নারাজ ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’
লাদাখের দাবি আদায়ের মূল মঞ্চ ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’-র সদস্যরা সোনাম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে ওঠা ‘উস্কানি’র অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, বুধবারের ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় তাঁরা যুক্ত ছিলেন না।

অ্যাপেক্স বডির সদস্যদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ কিছু তরুণ উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাঁরা আরও জানান, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা গ্রাম থেকে মানুষদের ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। এই মুহূর্তে তাঁরা ফের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

হিংসা ও সংঘর্ষের পর র‍্যাঞ্চোর গ্রেফতারি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের শীতল মরুভূমি লাদাখের উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।