জামিন পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়! নিয়োগ দুর্নীতির সব মামলাতেই মিলল স্বস্তি, কিন্তু এখনই কি জেলমুক্তি

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে জেলবন্দি থাকার পর এবার প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও জামিন পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ শুক্রবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। এর ফলে নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় মামলায় জামিন পেলেন তৃণমূলের এই প্রাক্তন মহাসচিব, এমনটাই দাবি করছেন তাঁর আইনজীবীরা।

তবে এই জামিনের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছে আদালত।

আদালতের দেওয়া কড়া শর্তাবলী:
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর পাসপোর্ট জমা করতে হবে।

তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে মাসে অন্তত একবার দেখা করতে হবে।

তিনি নিম্ন আদালতের এলাকা (কলকাতা) ছেড়ে যেতে পারবেন না।

আদালতে তাঁর ফোন নম্বর জমা দিতে হবে।

জামিন পেলেও কেন হচ্ছে না জেলমুক্তি?
নিয়োগ দুর্নীতির সব মামলায় জামিন পেলেও, প্রাক্তন মন্ত্রীর জেলমুক্তি এখনই হচ্ছে না বলেই আইনজীবীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ‘এক মাসের মধ্যে চার্জ গঠন ও দুইমাসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে।’ এই প্রক্রিয়া শেষ হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তাই শীর্ষ আদালতের নির্দেশিত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকছে।

পার্থর গ্রেফতার এবং আইনি যাত্রা
২০২২ সালের ২৩ জুলাই, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় টানা ১৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ এবং বহুমূল্য গয়না উদ্ধার হয়েছিল। সেই থেকে তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারেই ছিলেন।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়েছিল। সম্প্রতি এসএসসি-র গ্রুপ সি, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালতে জামিন পেলেও, প্রাথমিক মামলায় জামিন না পাওয়ায় তাঁর মুক্তি আটকে ছিল। এবার সেই বাধাও কাটল।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, “তদন্ত চলেছে। আইন আইনের পথে চলেছে। তদন্তকারী সংস্থা কেন্দ্রীয় এজেন্সি— কখনো সিবিআই, কখনো ইডি। যে কোনও ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন এবং তাঁর তরফে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। কখনো জামিনের আবেদন আদালত মান্যতা দেয়নি, কখনো মঞ্জুর করেছে। ফলে, এটা নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্যের কোনও অবকাশ নেই।”

অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার আদালতের রায় প্রসঙ্গে বলেন, “আদালতের রায় নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে পারব না বা চাইও না। তবে, উনি তো আপাতত ছাড়া পাচ্ছেন না। সুপ্রিম কোর্টেরও একটি মামলা আছে। তার তদন্ত নির্দিষ্ট কিছুদিনের মধ্যে শেষ করে দেওয়ার কথা আছে। আপাতত তিনি ছাড়া পাচ্ছেন না। আমার বিশ্বাস, চার্জশিট যেহেতু দাখিল হয়ে গেছে এবং কোর্টের রায়ে আগামীদিনে তাঁকে জেলের ভিতরে থাকতে হবে বলেই আমার মনে হয়।”