সাহায্যের বদলে তীব্র ধমক! কৃষকের প্রশ্নে ফুঁসে উঠলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, চরম বিতর্ক মহারাষ্ট্রে।

বন্যা বিধ্বস্ত মারাঠওয়াড়া এবং রাজ্যের অন্যান্য এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। সরকারি সাহায্যের দাবি নিয়ে আসা এক কৃষকের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদের ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় এক কৃষক অবিরাম বৃষ্টিতে তাঁর ক্ষতির বিবরণ দেন এবং অবিলম্বে ত্রাণ ব্যবস্থার দাবি জানান। উত্তরে অজিত পাওয়ার কার্যত খেঁকিয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “আপনাদের কী মনে হয়, আমরা কি বুঝি না? আমরা কি এখানে মার্বেল খেলতে এসেছি?”
ওই কৃষক যেন আধিকারিকদের প্রচেষ্টাকে ছোট করতে চাইছেন, এমন ইঙ্গিত দিয়ে পাওয়ার যোগ করেন, “আমি ভোর ৬টা থেকে কাজ করছি। আর আপনারা যারা কাজ করছেন, তাদের কণ্ঠস্বর দমন করার চেষ্টা করছেন।” এরপর তিনি টিপ্পনি কেটে বলেন, “আমরা কেন তাকেই (কৃষককে) মুখ্যমন্ত্রী করে দিচ্ছি না?”
এই মন্তব্যগুলির ভিডিও দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধী দল ও কৃষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচিত হয়।
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও প্রকাশ্যে মন্তব্যের জন্য বিতর্কের মুখে পড়েছেন পাওয়ার। এই মাসের শুরুতেই সোলারপুর জেলায় অবৈধ মাটি খননের বিরুদ্ধে অভিযানে থাকা আইপিএস অফিসার অঞ্জনা কৃষ্ণকে ধমক দেন তিনি। সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (SDPO) যখন তাঁকে বলেন, “আমি কী করে জানব আপনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী? স্যার, অনুগ্রহ করে সরাসরি আমার ফোনে কল করুন,” তখন পাওয়ার সপাটে জবাব দেন: “এক মিনিট, এক মিনিট ম্যায় তেরে উপর অ্যাকশন লুঙ্গা (এক মিনিট, আমি তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব)।”
বিতর্কের মধ্যেই অবশ্য মহারাষ্ট্র সরকার বন্যা কবলিত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। বন্যায় নিহতদের নিকটাত্মীয়রা পাবেন ৪ লাখ টাকা করে। পশুপালনে ক্ষতির জন্য দুগ্ধবতী পশুর ক্ষেত্রে ৩৭,৫০০ টাকা এবং ছাগল, ভেঁড়া বা শূকরের মতো ছোট প্রাণীর জন্য ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।