ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে ‘অসুস্থতার ছুটি’! রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, ‘পুরো প্রশাসন কীসের এত বাধা

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তারকেশ্বর থানার এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে রাজ্যের ভূমিকায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি চেয়েছেন এবং তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের এই পদক্ষেপের পরেই বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে।

বিচারপতি দেবাংশু বসাক ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, “এটা ঘুষ চাওয়ার ঘটনা। সেখানে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে শোকজ! তারপরেও কোর্ট চুপ থাকবে? হাইকোর্ট বলার পরে আর্থিক দুর্নীতির ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি অসুস্থ বলে ছুটি চেয়েছেন। আর আপনারা তদন্ত না এগিয়ে বসে আছেন!”

হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্যের অবস্থান
হাইকোর্ট ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরেও রাজ্যের তদন্তের গতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে।

জেবা নয় কেন? বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “কেন তাঁকে এখনও জেরা করা হয়নি? অথচ তিনি ঘুষ চাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ধরে নিচ্ছি, এরপর অডিয়ো রেকর্ড ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পাঠাবেন। অথচ অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের জন্য অসুস্থতার জন্য ছেড়ে দিলেন?”

সিরিয়াস নয়: ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, “এখনও বলতে বাধ্য হচ্ছি, যে ভাবে ব্যাপারটা নিয়ে এগোচ্ছেন, তাতে এখনও আপনারা সিরিয়াস নন। প্রথম থেকেই আপনারা ব্যাপারটা হালকা ভাবে নিয়েছেন, আর একের পর এক কোর্ট হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে।”

বাধা কোথায়: তিনি আরও প্রশ্ন করেন, “একজন ঘুষ চাওয়া পুলিশকে শাস্তি দিতে গোটা পুলিশ প্রশাসনের কীসের এত বাধা? কর্তৃপক্ষ যদি এই ভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করে তাহলে কী হবে!”

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ও আদালতের নির্দেশ
মামলাকারী বিল্টু হাজরার আইনজীবী জানান, পুলিশ কর্মী চম্পা কুণ্ডু ফোন করে বিল্টুকে তলব ও নোটিশ ধরিয়ে টাকা চান। পরে টাকা না দেওয়ায় দু’দিন পর ফের ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। তিনি এই তদন্ত দুর্নীতিদমন শাখার কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান।

হাইকোর্ট আপাতত তদন্ত এগোনোর নির্দেশ দিলেও রাজ্যের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করে। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে হবে। পাশাপাশি, ২৭ অক্টোবর তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।