তাঁত শিল্পে নয়া ঝড়, বিশ্ব বাংলা লোগো লাগিয়ে বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার টাকার সিল্ক! সরকারি উদ্যোগে এলাকায় বিক্রির আশ্বাসে খুশি শিল্পীরা

একসময় তাঁতের খটখট শব্দে ঘুম ভাঙত পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুর এলাকার বাসিন্দাদের। কিন্তু সভ্যতার উন্নতিতে এবং নতুন মেশিনের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছিল গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। বহু তাঁতি অন্য পেশা বেছে নিলেও, রামজীবনপুরের প্রায় তিন শতাধিক তাঁত শিল্পী এবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নিজেদের জাত চেনালেন, আর তাঁদের হাতেই তৈরি হচ্ছে চড়া দামের সিল্কের শাড়ি।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁত শিল্পীদের বসবাস। তবে কালের নিয়মে এই শিল্প বিলীন হতে বসলেও, রামজীবনপুরের তাঁতিরা নতুন পথ খুঁজে বের করেছেন।
তাঁতে বোনা সিল্ক: নয়া বিজনেস আইডিয়া
আগে যেখানে সাধারণ সুতোর কাপড় বুনে আর্থিক স্বনির্ভর হতেন তাঁরা, সেখানে এবার বিশেষ এক সুতো ব্যবহার করে সিল্কের কাপড় তৈরি করছেন এই শিল্পীরা। হাত টানা মেশিনে ফুটিয়ে তুলছেন নানা আকর্ষণীয় ডিজাইন।
লাভের অঙ্ক: পুজোকে কেন্দ্র করে সিল্কের শাড়ি বানিয়ে শিল্পীরা এবার বেশ ভালো মুনাফা করছেন। তাদের হাতে তৈরি এই সিল্কের শাড়ি বেশ কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পরিবারকেন্দ্রিক উদ্যোগ: এই কাজে শুধু ছেলেরাই নন, বাড়ির মহিলারাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন।
বিশ্ব বাংলা লোগো ও সরকারি আশ্বাস
বর্তমানে রামজীবনপুরের এই সিল্কের শাড়িগুলিতে সরকারি লোগো (‘বিশ্ব বাংলা’) লাগিয়ে অন্য জেলাগুলিতে বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও শিল্পীদের নিজেদেরই এই শাড়ি বিক্রি করার জন্য অন্য জেলায় যেতে হয়, তবে সরকারিভাবে এলাকায় বিক্রির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবে তথাকথিত তাঁত শাড়ি বুনে নয়, এবার সিল্কের শাড়িতেই লক্ষ্মী লাভ করছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এই প্রান্তের শিল্পীরা। রামজীবনপুরের তাঁতিদের এই উদ্যোগ লুপ্তপ্রায় শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার এক সফল দৃষ্টান্ত।