DA আন্দোলনে যুক্ত থাকায় প্রতিহিংসা, সংগ্রামী মঞ্চের সদস্যকে আলিপুরদুয়ারে বদলির নির্দেশ বেআইনি, রাজ্যকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

DA আন্দোলনে যুক্ত থাকায় প্রতিহিংসা, সংগ্রামী মঞ্চের সদস্যকে আলিপুরদুয়ারে বদলির নির্দেশ বেআইনি, রাজ্যকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

DA (ডিএ) আন্দোলনে যুক্ত থাকার ‘শাস্তি’ হিসেবে রাজ্য সরকারি আধিকারিককে তৃণমূলের কর্মচারী পরিষদের প্যাডে বদলির সুপারিশ করার ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদ ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের জারি করা ওই বদলির নির্দেশকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তা খারিজ করে দিয়েছে।

কী নিয়ে ছিল এই মামলা?
রাজ্য এমএসএমই (MSME) ডিপার্টমেন্টের আধিকারিক সুদীপ চন্দ ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর সদস্য এবং ডিএ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাঁকে নিউ সেক্রেটারিয়েট থেকে দূরবর্তী উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের কালচিনী ব্লকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সুদীপ চন্দর অভিযোগ ছিল, ডিএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাঁকে বদলি করার চক্রান্ত করা হয়েছে এবং এই নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে আইন বহির্ভূত।

এর আগে সুদীপ চন্দ স্যাট (SAT)-এ মামলা করলে বিচারপতি সৈয়দ আহমেদ বাবা’র বেঞ্চ বদলির নির্দেশটিকে বৈধ বলে রায় দিয়েছিল। স্যাটের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি পুনরায় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল ও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
এদিনের শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অভিযোগ আনেন। তাঁরা আদালতে জানান:

১. তৃণমূলের প্যাড: এই বদলির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে সরাসরি তৃণমূলের কর্মচারী ফেডারেশনের প্যাডে।
২. আইনের লঙ্ঘন: পনেরো বছরের বেশি সময় কর্মরত কোনও আধিকারিককে কোনও ব্লকে বদলি করা যায় না, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী।
৩. ডাইরেক্টরও আক্রান্ত: এর আগে এমএসএমই দফতরের যে ডিরেক্টর সুদীপ চন্দের পক্ষে সওয়াল করে বদলির বিরোধিতা করেছিলেন, তৃণমূলের কর্মচারী পরিষদের সুপারিশের পর তাঁকেও বদলি করে দেওয়া হয়।

উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সুদীপ চন্দের বদলির নির্দেশ খারিজ করে দেয়। একইসঙ্গে সরকারের উদ্দেশে বেঞ্চ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আগামীদিনে রাজ্যকে আইন মেনেই বদলির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। হাইকোর্টের এই রায় ডিএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ওপর প্রশাসনের প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের অভিযোগকে বড়সড় আইনি ধাক্কা দিল।