‘কেন ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে,’ রোজভ্যালি মামলায় তীব্র বিতর্কের পর ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ হাইকোর্টের

রোজভ্যালি কেলেঙ্কারির টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট এবার সেবি (SEBI)-কে ফরেনসিক অডিট করার নির্দেশ দিয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ সেবিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে:
১. সম্পত্তি বিক্রির রিপোর্ট: রোজভ্যালির ১০টি সম্পত্তি বিক্রি সংক্রান্ত প্রথম রিপোর্ট দিতে হবে। সেই রিপোর্টে জানাতে হবে, সম্পত্তিগুলো বাজারদরের চেয়ে বেশি না কম দামে বিক্রি হয়েছে।
২. ফরেনসিক অডিট: রোজভ্যালির সব হিসেব-নিকেশ বৈধ কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এজন্য ফরেনসিক অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. আর্থিক লেনদেনের বৈধতা: ‘চকলেট গ্রুপ’ থেকে ‘এডিসি’ (Asset Disposal Committee) কীভাবে টাকা নিল, সেই লেনদেনটি কতটা বৈধ, তার বিস্তারিত হিসেব ও রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আদালতে তীব্র বিতর্ক
এদিন শুনানিতে এডিসি-র আইনজীবী সেবিকে দিয়ে অডিট করানোর বিষয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, আদালত চাইলে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে অডিট করাতে পারে, তবে সেবি হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নয়। এর উত্তরে প্রতারিতদের পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “এডিসি-র ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ আছে কি? কেন এডিসি এই অডিট নিয়ে আপত্তি করছে?”
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ বলেন, “মানুষের মনে ধারণা হচ্ছে সিবিআই ও ইডি তাদের তদন্ত করছে, কিন্তু তাতে ফরেনসিক অডিট নেই। সেবির এই ব্যাপারে বিশেষ দফতর আছে, তাই তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।” আদালত আরও জানায় যে, কমিটির কাজকর্ম নিয়ে অনেক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক বছর ধরে ব্যাংকে জমা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার জন্য কমিটি কোনো উদ্যোগ নেয়নি, যা আদালতের নজরে আছে।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিনই সেবিকে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, দিলীপ শেঠ কমিটি টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু অনিয়মের অভিযোগের কারণে আদালত তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।