‘দ্রোহের কার্নিভালে’র ১১ মাস পর, কেন পাঁচ চিকিৎসককে হঠাৎ থানায় তলব?

গত বছর রেড রোডে যখন দুর্গাপুজোর বিসর্জন কার্নিভাল চলছিল, ঠিক সেই সময়েই ধর্মতলায় ‘দ্রোহের কার্নিভাল’ আয়োজন করেছিলেন আরজি কর হাসপাতালের আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। সেই ঘটনার ১১ মাস পর, হঠাৎ করে পাঁচজন চিকিৎসককে থানায় তলব করে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই দিন তারা নাকি আইন ভেঙেছিলেন।

তলব করা চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং সিনিয়র চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় ও পূণ্যব্রত গুণ। এছাড়াও, ডোরিনা ক্রসিংয়ে অনশনে থাকা এবং জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পরিচিত মুখ অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার ও অর্ণব মুখোপাধ্যায়কেও ডাকা হয়েছে।

আগামী তিন দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার তাদের হেয়ার স্ট্রিট থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। এই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর কঠোর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর ১৩২ (সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া), ২২৩ (বেআইনি সমাবেশ), ২৮৫ (জনপথে বাধা সৃষ্টি) এবং ৭৪ (মহিলাদের শ্লীলতাহানি)-এর মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে। গত বছর ১২ ও ১৫ অক্টোবর রুজু হওয়া দুটি এফআইআর সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাদের থানায় ডাকা হয়েছে বলে নোটিসে জানানো হয়েছে।

যাদের তলব করা হয়েছে, তাদের মধ্যে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের তিন নেতা অনিকেত, দেবাশিস ও অর্ণব ছাড়াও রয়েছেন চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক পূণ্যব্রত এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স (এএইচএসডি)-এর সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগেও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন চিকিৎসক নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এদের মধ্যে আছেন তমোনাশ চৌধুরী, সুবর্ণ গোস্বামী, মানস গুমটা এবং কৌশিক চাকীর মতো বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।