মোদীর স্বপ্নের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন! ফ্রান্সের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতে তৈরি হবে ১২০ কিলো নিউটনের ইঞ্জিন

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট (AMCA)-এর জন্য দেশেই শক্তিশালী জেট ইঞ্জিন তৈরি করতে চলেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) এবং ফ্রান্সের সংস্থা সাফ্রান এস.এ (Safran S.A)। এই যৌথ প্রকল্পের অনুমোদন খুব শীঘ্রই দেওয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় দেশীয় যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন তৈরির ওপর জোর দেওয়ার পরেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্সের সাথে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি
জানা গেছে, সাফ্রান এবং ডিআরডিও-এর গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (GTRE), যৌথভাবে আগামী ১২ বছরের মধ্যে মোট ৯টি পরীক্ষামূলক মডেল বা প্রোটোটাইপ তৈরি করবে। প্রাথমিকভাবে ১২০ কিলো নিউটনের ইঞ্জিন তৈরি করা হলেও, এর ক্ষমতা বাড়িয়ে ১৪০ কিলো নিউটনে উন্নীত করা হবে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সাফ্রান তাদের অত্যাধুনিক ‘ক্রিস্টাল ব্লেড’ প্রযুক্তিসহ সমস্ত প্রযুক্তি ডিআরডিও-কে হস্তান্তর করবে। এই ব্লেডগুলি সুপার-অ্যালয় দিয়ে তৈরি, যা উচ্চ তাপ ও চাপ সহ্য করতে পারে, এবং এর ফলে ইঞ্জিন আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই প্রযুক্তি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে ভারত আর অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

কেন ফ্রান্সই ভরসা?
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রযুক্তি নেওয়ার প্রস্তাব প্রায়শই শর্তযুক্ত এবং কৌশলগত কারণে বিঘ্নিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৮ সালে পোখরানে পারমাণবিক পরীক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তখন ফ্রান্স পাশে ছিল। তারা ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অত্যাধুনিক ব্যবস্থা এবং মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন সংস্থা জিই (GE) ভারতকে ২১২টি এফ-৪০৪ ইঞ্জিন সরবরাহ করলেও, তারা ভারী জিই-৪১৪ ইঞ্জিনের মাত্র ৭০% প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত তার বিশ্বস্ত অংশীদার ফ্রান্সের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।

আত্মনির্ভর ভারতের নতুন অধ্যায়
এই ১২০-১৪০ কিলো নিউটনের ইঞ্জিনটি ভারতের ‘অ্যাডভান্সড মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট’ (AMCA)-কে শক্তি জোগাবে। এই যুদ্ধবিমানগুলো টাটা গ্রুপ, এল অ্যান্ড টি এবং আদানি ডিফেন্সের মতো ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দেশেই তৈরি হবে। এই পদক্ষেপটি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে এবং দেশীয়ভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদনে ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।