পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে সব্যসাচী, ১১ হাজার টাকা জরিমানা করল হাইকোর্ট

দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। কলকাতা হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছে এবং উল্টে সব্যসাচীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ধরনের মামলার মাধ্যমে শুধু আদালতের সময় নষ্ট হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কার্তিক মহারাজ একজন সন্ন্যাসী ও জনসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি। তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক হতে পারে, কিন্তু তা সরাসরি মানহানির পর্যায়ে পড়ে না। তাই এমন মামলার কোনও মেরিট নেই।”

কেন এই মামলা?
দিঘার জগন্নাথ মন্দির প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছিলেন কার্তিক মহারাজ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সব্যসাচী দত্ত এই মানহানির মামলা দায়ের করেন। অতীতেও মুর্শিদাবাদে হিংসা-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন কার্তিক মহারাজ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করে, কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে এর আগে যে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই প্রেক্ষাপটে মানহানির মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।

বিজেপি’র প্রতিক্রিয়া
আদালতের এই রায়ের পর বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শাসকদলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “সত্য প্রতিষ্ঠা পায়। ভারতীয় বিচারব্যবস্থা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসীকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।” এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।