কিসের দাম বাড়ছে, সস্তা হচ্ছে কী কী? দেখেনিন নতুন GST-র সম্পূর্ণ তালিকা

উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের জন্য বড় উপহার দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকে কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই নতুন কর কাঠামোয় চারটি স্ল্যাব (শূন্য, ৫%, ১৮% এবং ৪০%) থাকবে, যা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে বাজারে ১০০-রও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে।
কোন কোন জিনিস সস্তা হচ্ছে?
খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস: ভোজ্য তেল, মাছ, মাংস, দুধজাত পণ্য, চিনি, চকোলেট, বিস্কুট, ফলের রস এবং জ্যামের ওপর কর ৫% নামানো হয়েছে। একইভাবে, সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, শেভিং প্রোডাক্টস ও ট্যালকম পাউডারের কর ১৮% থেকে কমে ৫% করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: শিক্ষা খাতে ব্যবহৃত নোটবুক, ম্যাপ, গ্লোব, চক ও পেন্সিলের ওপর থেকে সম্পূর্ণ কর তুলে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও মেয়াদী বীমায় কোনো কর থাকবে না। থার্মোমিটার, ডায়াগনস্টিক কিট, গ্লুকোমিটার এবং মেডিকেল অক্সিজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উপকরণের ওপর কর ১২%-১৮% থেকে কমে ৫% হবে।
ইলেকট্রনিক্স ও পরিবহন: এয়ার কন্ডিশনার, ডিশওয়াশার, টিভি এবং প্রোজেক্টরের ওপর কর ১৮% করা হয়েছে। ছোট গাড়ি, থ্রি-হুইলার, অ্যাম্বুলেন্স, ৩৫০ সিসির নিচের মোটরসাইকেল এবং বাণিজ্যিক গাড়ির ওপর কর ২৮% থেকে কমে ১৮% হবে।
অন্যান্য: বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্য, ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের পোশাক, সুতা এবং হস্তশিল্পের ওপর কর ৫% করা হয়েছে। এছাড়া, ৭,৫০০ টাকার নিচে হোটেলের ভাড়া এবং ১০০ টাকার কম দামের সিনেমা টিকিটেও ৫% কর দিতে হবে।
কোন কোন জিনিসের দাম বাড়বে?
নতুন কর কাঠামোয় কিছু বিলাসবহুল এবং নেশাজাতীয় দ্রব্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে।
- তামাক ও পানীয়: তামাকজাত দ্রব্য, সিগার, সিগারেট, পান মশলা এবং তামাকের ওপর কর বেড়ে ৪০% হয়েছে। ক্যাফিনযুক্ত ও কার্বনেটেড পানীয়তেও কর ২৮% থেকে বেড়ে ৪০% করা হয়েছে।
- বিলাসবহুল পণ্য: বিলাসবহুল গাড়ি, এসইউভি এবং ৩৫০ সিসির ওপরের মোটরসাইকেলের ওপর কর ৪০% করা হয়েছে।
- বিনোদন: ক্রিকেট ম্যাচের টিকিটে কর ১৮% এবং ক্যাসিনো ও রেস ক্লাবে কর ৪০% করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য:
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই নতুন কর কাঠামো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাবে। একইসাথে, বিলাসবহুল ও নেশাজাত দ্রব্যের ওপর উচ্চ কর বসিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।