সমুদ্রে শক্তি বাড়বে ভারতের, নৌসেনার জন্য নতুন চমক! ৯টি আধুনিক সাবমেরিন আনার পরিকল্পনা

ভারত তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় এবার নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে চলেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনী তার বহরে ৯টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন যুক্ত করবে। এই নতুন সাবমেরিনগুলো ভারতের নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৯টি নতুন সাবমেরিন
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনী তার বহরে ৯টি নতুন ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন যুক্ত করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৩টি সাবমেরিন প্রজেক্ট-৭৫ এর অধীনে পাওয়া যাবে এবং বাকি ৬টি সাবমেরিনের জন্য আলাদা চুক্তি করা হবে। এই সাবমেরিনগুলো ভারতের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডে তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য, এই সাবমেরিনগুলো শত্রুর নজর এড়িয়ে টর্পেডো এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করতে সক্ষম, যা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের মধ্যে গণ্য।

পারমাণবিক সাবমেরিনের প্রস্তুতি
ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন ছাড়াও ভারতীয় নৌবাহিনী পারমাণবিক সাবমেরিনের দিকেও মনোযোগ দিয়েছে। সরকার দুটি পারমাণবিক আক্রমণকারী সাবমেরিন (SSN) নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩৬-৩৭ সালের মধ্যে প্রথম দেশীয়ভাবে তৈরি SSN সাবমেরিন নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। বর্তমানে ভারতের ১৭টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং দুটি পারমাণবিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN) রয়েছে।

পাকিস্তানের সাবমেরিন ত্রুটিপূর্ণ
অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য চীন থেকে ৮টি ইউয়ান ক্লাসের সাবমেরিন কিনছে। এর মধ্যে তারা ৩টি হাতেও পেয়েছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে অনেক কারিগরি ত্রুটি রয়েছে, যেমন:

প্রযুক্তিগত দুর্বলতা: পাকিস্তানের ব্যবহৃত হ্যাঙ্গর ক্লাসের সাবমেরিনগুলো ভারতের স্করপিন সাবমেরিনের তুলনায় অনেক পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এগুলোর সেন্সর ও পরিচালনা ব্যবস্থাও সেকেলে।

শব্দ ও চালনা: চীনের সাবমেরিনগুলো থেকে অতিরিক্ত শব্দ হয়, যার কারণে এদের সহজেই ট্র্যাক করা যায়। তাছাড়া, বড় আকারের কারণে এদের চালনা ক্ষমতা সীমিত।

নির্ভরযোগ্যতা: চীনের এয়ার ইনডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (AIP) সিস্টেমকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয় না। এর কারণে পাকিস্তানের সাবমেরিনগুলো কার্যকারিতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর এই নতুন সংযোজনগুলো দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে এবং ভারত মহাসাগরে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।