“কারচুপি হলে ৩৫ বছরে সবথেকে বেশি ভোট কীভাবে পেল…?'”- রাহুলকে আক্রমণ বিজেপির

স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (এসএসসি) প্রতিবাদী পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের পর সোমবার কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ আনলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগের কড়া সমালোচনা করে পাল্টা আক্রমণ করেছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, “যুক্তিযুক্ত দাবি নিয়ে প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ লজ্জাজনক। এই সরকার দেশের যুবসমাজের জন্য উদ্বিগ্ন নয় কারণ তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে।” অন্যদিকে মল্লিকার্জুন খাড়গেও এই ঘটনার নিন্দা করে বলেন, “দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ চুরি করা মোদী সরকারের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”
কংগ্রেসের ভোট চুরির অভিযোগের পরই বিজেপি শিবির থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রাফিক্স কার্ড শেয়ার করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস গত ৩৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। মালব্য প্রশ্ন তোলেন, “কংগ্রেস ভোট চুরি নিয়ে কাঁদছে, কিন্তু ২০২৪ সালে শতাংশের হারে গত ৩৪ বছরে সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছে কংগ্রেস। মনে হয় রাহুল গান্ধীকে একথা কেউ জানাননি।” মালব্য আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট ছিল ৩৯.৫৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৪১.৩৩ শতাংশ হয়েছে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সিআর কেশবনও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, “রাহুল গান্ধী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কলঙ্কিত করার জন্য ভোট চুরির অপবাদ দিচ্ছেন। তিনি কি ব্যাখ্যা করতে পারবেন কেন কংগ্রেস দলের ভোটের ভাগ একই আছে অথবা বেড়েছে?” আরেক বিজেপি নেতা প্রদীপ ভান্ডারিও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “যদি ‘ভোট চুরি’ ঘটে থাকে, তাহলে ১৯৮৯ সাল থেকে কংগ্রেস এবং তার মিত্রদের ভোটের হার ৩৯% থেকে ৪১% কীভাবে বেড়েছে?”
উল্লেখ্য, এই বিতর্ক শুরু হয় গত ৭ আগস্ট থেকে, যখন রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা নিয়ে ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, মোট ৬ রকম ভাবে ভোট চুরি হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে বহু আসনে ভোট চুরি করে জিতেছে। এরপর থেকে তিনি লাগাতার এই অভিযোগে সরব রয়েছেন। এমনকি ভোটমুখী বিহারে ‘ভোট অধিকার যাত্রা’ও শুরু করেছেন তিনি। এবার এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপি শিবির।