97 টি তেজস MK-13A আসার পর ভারতের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কত হবে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ৬২,০০০ কোটি টাকা খরচ করে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) জন্য ৯৭টি তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিটি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। এই বিমানগুলো পুরনো যুদ্ধবিমানগুলোর জায়গা নেবে এবং বিমান বাহিনীর ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।
কেন এই যুদ্ধবিমানগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে মাত্র ৩১টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন রয়েছে, যেখানে প্রয়োজন ৪২টি স্কোয়াড্রন। প্রতিটি স্কোয়াড্রনে গড়ে ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকে। পুরনো MiG-21, MiG-23 এবং MiG-27-এর মতো বিমানগুলো অবসরে যাওয়ার কারণে এই স্কোয়াড্রনের সংখ্যা কমে গেছে। নতুন ৯৭টি তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমান এই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে।
- কী আছে এই বিমানে? এই বিমানগুলো আধুনিক AESA রাডার, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এবং অ্যাস্ট্রা মিসাইলের মতো প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি একটি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার জেট যা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে মাটিতে আক্রমণ করতে সক্ষম। এই বিমানের ৬৫% এরও বেশি যন্ত্রাংশ ভারতেই তৈরি।
বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
৯৭টি নতুন তেজস যুদ্ধবিমান যোগ হওয়ার পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর মোট যুদ্ধবিমানের সংখ্যা প্রায় ৬০০ থেকে ৬২০টি হবে। এতে তেজসের সংখ্যাই হবে ২২০টি। এটি প্রায় ৩৩-৩৪টি স্কোয়াড্রনের সমান। তবে এটি এখনও ৪২টি স্কোয়াড্রনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।
ভবিষ্যতে, ভারত সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে বিমান বাহিনীর বহর ৬০টি স্কোয়াড্রনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। কারণ চীন এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিমান বাহিনীর বেশ কিছু বড় পরিকল্পনা রয়েছে:
- তেজস মার্ক ২: এটি তেজসের আরও উন্নত সংস্করণ, যা GE F414 ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি হবে। এটি মিগ-২৯ এবং জাগুয়ারের মতো পুরনো বিমানগুলোর জায়গা নেবে।
- পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (AMCA): ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজেদের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট ব্যবহার শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।
- নতুন যুদ্ধবিমান: দ্রুত স্কোয়াড্রনের ঘাটতি পূরণের জন্য ভারত রাফাল, F-15EX বা F/A-18-এর মতো ১১৪টি নতুন যুদ্ধবিমান কিনতে চাইছে।
- Su-30 MKI আপগ্রেড: ২৬০টি Su-30 MKI জেটকে দেশের তৈরি উন্নত রাডার এবং অন্যান্য প্রযুক্তি দিয়ে আপগ্রেড করা হবে।
চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান
তেজস প্রকল্পের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদনে দেরি। এর প্রধান কারণ, আমেরিকান GE F404 ইঞ্জিনের সরবরাহ নিয়ে সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে HAL এবং GE এখন ভারতে F414 ইঞ্জিন একসঙ্গে তৈরি করবে। এছাড়াও, সরকার তেজস এবং AMCA-র উৎপাদনে বেসরকারি কোম্পানিকে যুক্ত করার কথা ভাবছে, যাতে উৎপাদন দ্রুত এবং খরচ কম হয়।