ভুয়ো ভোটার কার্ডের অভিযোগ গড়াল হাইকোর্টে, কমিশনের কাছে রিপোর্ট চাইলেন বিচারপতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ মহকুমায় ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরির অভিযোগ ঘিরে এবার কলকাতা হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। জাল জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে, এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের মূল কারণ
কাকদ্বীপের এক বরখাস্ত হওয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজার আদালতে এই বিস্ফোরক অভিযোগটি সামনে আনেন। তাঁর দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতে অনলাইনে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, শুধুমাত্র এই একটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেই বেআইনিভাবে ৩৫৫৮টি জন্মের শংসাপত্র এবং ৫৫৮টি মৃত্যুর শংসাপত্র জারি করা হয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই জালিয়াতির মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়া।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
আদালতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো রাজ্যের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার সময় খতিয়ে দেখা হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি একজন কর্মকর্তার কম্পিউটার লগইন আইডি বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাই তাঁর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

আদালতের নির্দেশ
তবে সব পক্ষের কথা শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে, নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে, এই গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।

এই মামলার রায় এখন সবার নজরে, কারণ এটি দেশের ভোটার তালিকা এবং নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।