১২ হাজার নয়, টিসিএসে ছাঁটাই হচ্ছেন ৩০ হাজার কর্মী? দাবি সামনে আসতেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ

দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) -এ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় এবার নতুন বিতর্ক। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রায় ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হবে। কিন্তু একটি তথ্যপ্রযুক্তি ইউনিয়নের দাবি, এই সংখ্যাটা আসলে ৩০ হাজার! এই খবর সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আইটি কর্মীরা।

ইউনিয়নের দাবি ও বিক্ষোভ

আইটি অ্যান্ড আইটিইএস কর্মীদের ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, টিসিএস কর্মী ছাঁটাইয়ের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করছে না। তারা মনে করছেন, ১২ হাজার নয়, বরং এর থেকে অনেক বেশি সংখ্যক কর্মীকে চাকরি হারাতে হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সিটু (CITU)-এর সমর্থনে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীরা টিসিএস-কে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করার দাবি জানান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চান।

অভিজ্ঞ কর্মীরাই ঝুঁকিতে

ইউনিয়নের যুগ্ম সভাপতি চন্দ্রশেখর আজাদ বলেছেন, “এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে মূলত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যারা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন, এমনকি যাদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আছে, তাদেরও ছাঁটাই করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এর ফলে টিসিএস-এর ভেতরে কর্মীদের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

টিসিএসের বক্তব্য

অন্যদিকে, টিসিএস কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ২% কর্মী অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার কর্মীই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের আওতায় আছেন।

প্রসঙ্গত, টিসিএস-এর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬ লাখ কর্মী রয়েছে। সংস্থা আগেই জানিয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল পরিবর্তনের জন্য সংস্থাকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত করতে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি, তাদেরকেই ছাঁটাই করা হচ্ছে। তবে তাদের আর্থিক সহায়তা ও নতুন কর্মসংস্থানেও সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর থেকেই কর্ণাটক সরকার এবং কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রণালয় টিসিএসের কাছে এই বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। এখন ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের নতুন অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।