“এই ভাবে ভোট চুরি ভারত মাতার অপমান”-বিহারের ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ নিয়ে ফের সরব রাহুল

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিহারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে আবারও ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছেন। মঙ্গলবার নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি সুরেশ কুমার নামে এক বিহারী বাসিন্দার একটি ভিডিও পোস্ট করে এই অভিযোগ করেন। রাহুল লেখেন, “সুরেশজির সঙ্গে যা ঘটছে, বিহারের লক্ষ লক্ষ মানুষের সঙ্গেও সেই একই ঘটনা ঘটছে। এইভাবে ভোট চুরি করা ভারত মাতার অপমান।” তিনি আরও বলেন যে, বিহারের জনগণ এই অন্যায় সহ্য করবে না।

রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুরেশ কুমার রাষ্ট্রীয় জনতা দলের একজন সক্রিয় কর্মী এবং বুথ এজেন্ট। কমিশন স্পষ্ট করে বলেছে যে ‘এসআইআর’-এর আগেও সুরেশ কুমারের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না, তাই ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়েছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতেও তার নাম নেই।

কমিশন আরও জানিয়েছে যে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সুরেশ কুমার ফর্ম-৬ জমা দেননি। এমনকি বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরও তিনি কোনো আপত্তি জানাননি। তাই তার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। কমিশন আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যদি ওই ব্যক্তি পরবর্তীতে ফর্ম-৬ পূরণ করেন, তবে আইন অনুযায়ী তার নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধী এর আগেও বিহারে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছিলেন। পূর্বে তিনি রঞ্জু দেবী নামে এক মহিলার ভিডিও পোস্ট করে তার এবং তার পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছিলেন। তখন নির্বাচন কমিশন সেই মহিলার একটি পাল্টা ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় তার এবং তার পরিবারের সবার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। সেই ভিডিওতে ওই মহিলা অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজনৈতিক নেতারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ পড়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এই ঘটনাগুলো বিহারের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তুলছে।