‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ মেনে ব্লকে রদবদলের ইঙ্গিত দিলেন অভিষেক, শিগ্রই হতে পারে পদক্ষেপ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি শুধু নন্দীগ্রাম বিধানসভার নেতাদের নিয়ে একটি পৃথক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তার সাংগঠনিক বৈঠকগুলোর মধ্যে প্রথম। এই বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও জানানো হয়নি, তবে পূর্ব মেদিনীপুরের নেতাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তমলুক সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় অভিষেক এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই বৈঠকে উপস্থিত এক প্রবীণ নেতা জানান, অভিষেক নন্দীগ্রামকে নিয়ে আলাদা করে কেন বৈঠক করবেন, তার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করেননি। তবে এতে নন্দীগ্রামের ব্লক ও অঞ্চল স্তরের নেতাদের পাশাপাশি জেলা নেতৃত্বও উপস্থিত থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, কারণ এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে শুভেন্দু জয়লাভ করেন এবং পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি নন্দীগ্রামে বিজেপি-র প্রভাব ধরে রেখেছেন। তাই তৃণমূল নেতাদের মতে, অভিষেক এখন থেকে নন্দীগ্রামের জন্য একটি বিশেষ কৌশল তৈরি করছেন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই সূত্র ধরে তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, অভিষেক এখন এই ‘প্রতিশোধ’ নিতেই ঘুঁটি সাজানো শুরু করেছেন। দলের অভিজ্ঞ নেতাদের মতে, অভিষেক সম্ভবত নন্দীগ্রামে দলীয় সংগঠন এবং নির্বাচনী রণনীতির জন্য একটি বিশেষ ‘কোর টিম’ গঠন করতে পারেন অথবা কোনো নেতাকে বিশেষ দায়িত্ব দিতে পারেন।
একই বৈঠকে অভিষেক তমলুক সাংগঠনিক জেলার লোকসভা নির্বাচনের খারাপ ফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন। এই বৈঠকে দলের অভ্যন্তরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে কিছু নেতা আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ইউনিয়নের কাজ নিয়ে অভিযোগ করেন।
এছাড়াও, অভিষেক বারাসত সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন এবং সেখানেও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একসাথে কাজ করার নির্দেশ দেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, কাকলি ঘোষদস্তিদার-সহ অন্যান্য নেতারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে অভিষেক ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি অনুসরণের কথা বলেন এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সী যুব নেতাদের মূল সংগঠনে কাজ করার পরামর্শ দেন। আগামী দিনে কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গেও তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।