লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নয়া ঘোষণা রাজ্যের! ৫গুণ বেশি ঢুকবে টাকা? জানুন বিস্তারে কী ব্যাপার

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে যে, আগস্ট মাস থেকে বাংলার মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচ গুণ বেশি অর্থাৎ প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে পাবেন। যদিও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা গেছে, এটি পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের খবর নয়, বরং ঝাড়খণ্ড সরকারের একটি নতুন প্রকল্প সম্পর্কিত খবর।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ও তার বর্তমান অবস্থা
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটি রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাফল্যের পেছনে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই প্রকল্পের অধীনে, পূর্বে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণীর মহিলারা ১০০০ টাকা করে পেতেন। বর্তমানে, সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা ১০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণীর মহিলারা ১২০০ টাকা করে পাচ্ছেন। এই বর্ধিত ভাতা ইতিমধ্যেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে।

ঝাড়খণ্ডের ‘মাইয়া সম্মান যোজনা’
যে তথ্যে ২৫০০ টাকা পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সরকারের ‘মাইয়া সম্মান যোজনা’ সম্পর্কিত। এই প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র মহিলাদের প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৯৬০৯ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারিত হয়েছে এবং রাজ্য সরকার শীঘ্রই দুটি কিস্তির টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে চলেছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে, যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক (আধার সিডিং) করা বাধ্যতামূলক। এর জন্য ব্যাঙ্ক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে।

সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধির যে খবর ছড়িয়েছিল, তা আসলে ঝাড়খণ্ডের একটি ভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কিত তথ্য।