গোটা মুখ জুড়ে অজস্র শুঁড়! বীভৎস রূপ খরগোশের, আতঙ্কিত কলোরাডো

সাধারণত নিরীহ প্রাণী হিসেবে পরিচিত খরগোশের মাথায় শিং এবং মুখের চারপাশে শুঁড় গজানোর এক অদ্ভুত ঘটনা দেখা যাচ্ছে উত্তর কলোরাডোতে। স্থানীয়রা এই অদ্ভুত চেহারার খরগোশগুলোকে ‘জম্বি র‍্যাবিট’ নাম দিয়েছে, যা নিয়ে নেট দুনিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। ‘আমেরিকান ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন’ গত এক মাস ধরে এই শিংওয়ালা খরগোশগুলোর ওপর নজর রাখছে।

এই খরগোশগুলো মূলত ‘কটনটেল’ প্রজাতির। কলোরাডো পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এমনটি হচ্ছে। যদিও এই রোগটি মানুষ বা অন্য কোনো পোষা প্রাণীর মধ্যে ছড়ায় না, তবুও বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোগটি কী?

এই সমস্যাটি আসলে ‘র‍্যাবিট বা শোপ প্যাপিলোমা ভাইরাস’-এর কারণে হয়। এই ভাইরাস এক খরগোশ থেকে আরেক খরগোশের মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শে বা পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফের মুখপাত্র কারা ভ্যান হুস বলেন, এই ভাইরাসের কারণে খরগোশের চামড়ায় মোমের মতো দেখতে কিছু অংশ তৈরি হয়, যা মূলত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। এটি দেখতে শিং বা শুঁড়ের মতো দেখায়।

সাধারণত এই রোগ খরগোশের জন্য গুরুতর নয়, যদি না এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তাদের খাবার বা জল খাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খরগোশগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেই এই ভাইরাস থেকে সেরে ওঠে। যদিও এই ভাইরাস মানুষ বা অন্যান্য পোষা প্রাণীর জন্য বিপজ্জনক নয়, তবুও যেকোনো বন্যপ্রাণীর মতোই সংক্রমিত খরগোশ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্যান হুস জানান, গ্রীষ্মকালে উকুন বা মাছি জাতীয় পোকামাকড়ের কামড়ে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং শীতকালে তা আপনাআপনি সেরে যায়।