গুপ্ত রাজনীতি’র নতুন রূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর ছাত্র রাজনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই কমিটি ঘোষণার পরই ‘সাধারণ ছাত্র’ ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের কাছে গিয়ে হলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানায়। এই ঘটনায় ‘গুপ্ত রাজনীতি’র বিষয়টি সামনে এসেছে।

‘গুপ্ত রাজনীতি’ কী?
লেখক তার লেখায় গুপ্ত রাজনীতিকে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির থেকে আলাদা বলে উল্লেখ করেছেন। আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি সাধারণত নিষিদ্ধ দলগুলোর গোপনে পরিচালিত কর্মকাণ্ডকে বোঝায়, যেমন সিরজ শিকদারের সর্বহারা পার্টি বা বর্তমানের হিজবুত তাহরির। অন্যদিকে, গুপ্ত রাজনীতি হলো এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যা অন্য কোনো পরিচয়ে বা ছদ্মবেশে পরিচালিত হয়।

ছাত্র শিবিরের উদাহরণ:
লেখকের মতে, ইসলামী ছাত্র শিবির গুপ্ত রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তৈরি করেছে। হাসিনার শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে না পেরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তারা ছাত্রলীগের কর্মী ও নেতা পরিচয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করত এবং বিভিন্ন অপকর্মেও অংশ নিত। এই কৌশল অবলম্বন করে তারা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখেছিল। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পর শিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে আসে এবং তাদের ‘গুপ্ত’ কর্মকাণ্ডের কথা জানান দেয়।

‘সাধারণ ছাত্র’ নাকি নতুন ছদ্মবেশ?
ছাত্রদল যখন হলে কমিটি ঘোষণা করে, তখন ‘সাধারণ ছাত্র’ ব্যানারে যারা এর প্রতিবাদ জানায়, তাদের আসল পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ‘সাধারণ ছাত্র’ আসলে ছাত্র শিবিরের নতুন ছদ্মবেশ। এই গ্রুপটি হলগুলোতে সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় না দিয়ে বিভিন্ন সেবামূলক কাজের মাধ্যমে ছাত্রদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যা শিবিরের একটি পুরনো ও কার্যকর পদ্ধতি।

ভিসির ভূমিকা ও প্রশ্ন:
এই বিতর্কের মুখে উপাচার্য ঘোষণা করেছেন যে হলে ছাত্র রাজনীতি এবং গুপ্ত রাজনীতি উভয়ই বন্ধ করা হবে। কিন্তু লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, যে রাজনীতি গোপনে চলে, তা কীভাবে বন্ধ করা সম্ভব? এছাড়া, হলে ছাত্র সংগঠনের কমিটি না থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, সে প্রশ্নও উঠে এসেছে। লেখক বর্তমান ভিসির অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন এবং দলীয় আনুগত্যের কারণে শিক্ষকদের পক্ষপাতমূলক আচরণের সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, যতক্ষণ না শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ হয় এবং শিক্ষকরা মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেন, ততক্ষণ ছাত্র রাজনীতির ‘দানবীয় রূপ’ প্রকাশ পেতেই থাকবে।