আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, নতুন পরমাণু চুক্তি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান

আজ আলাস্কায় মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ ও উত্তেজনা তুঙ্গে, কারণ ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে নতুন একটি পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এটি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে ছয় বছর পর প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।

মূল আলোচ্য বিষয়:
এই বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা হলো ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নতুন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি। শোনা যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে চাপ এলে পুতিন তার পাল্টা হিসেবে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির দাবি জানাতে পারেন। একইসঙ্গে, রাশিয়াকে লক্ষ্য করে আমেরিকা যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা প্রত্যাহারেরও দাবি জানাবেন পুতিন। ২০১০ সালে বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের মধ্যে শেষ পরমাণু চুক্তি হয়েছিল, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। এই চুক্তিতে উভয় দেশের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছিল।

ট্রাম্পের মন্তব্য এবং বৈঠকের অনিশ্চয়তা:
বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য এই আলোচনার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমার সামনে পুতিনের কোনো কারসাজি চলবে না।” তিনি বৈঠকের সফল হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ বলে মনে করেন। তা সত্ত্বেও, যদি এই বৈঠক সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। যদিও এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে, সেখানে জেলেনস্কিকে এখনও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

যুদ্ধ এবং শান্তি:
২০২২ সাল থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পুরোদমে চলছে। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করতে সক্ষম। আজকের বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ককে উষ্ণ করতে এবং ইউক্রেন সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুলতে সাহায্য করতে পারে বলে অনেকেই আশা করছেন।