আকস্মিক বন্যায় পাকিস্তানে ভয়ঙ্কর বিপত্তি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬০, নিখোঁজ শতাধিক

পাকিস্তানজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভয়াবহ বন্যায় পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। জুন মাসের ২৬ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মোট ৩৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা ও শিশু। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির উত্তর-পশ্চিম অংশে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বন্যার কারণে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের সরকারি মুখপাত্র ফয়জুল্লাহ ফারাক জানান, বৃহস্পতিবার গাজার জেলায় আকস্মিক বন্যায় ১০ জন মারা গেছেন। একই দিনে খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় প্রবল মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু হয় এবং ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে উদ্ধারকারী কর্মী আমজাদ খান নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও, বাটগ্রাম জেলায় আকস্মিক বন্যায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও বৃষ্টির কারণে ৭ জন মারা গেছেন। খাইবার পাখতুনখাওয়ার জরুরি পরিষেবা মুখপাত্র বিলাল ফাইজি জানান, মনসেহরা জেলার সিরান উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে আটকা পড়া ১,৩০০ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, গিলগিট-বালতিস্তানে গত জুলাই মাস থেকে বেশ কয়েকবার বন্যা হয়েছে, যার ফলে কারাকোরাম জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা উত্তরাঞ্চলে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যার (GLOF) বিষয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলতে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।